অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রের

7

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কিভাবে এত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সহিংসতায় কারা জড়িত, বৈধ কোনো অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ের পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আশরাফুল আজীম গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এর আগে কক্সবাজারেও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ। নির্বাচনী সহিংসতায় নরসিংদীতে দুই দফায় ৯ এবং কক্সবাজারে পাঁচজন নিহত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সহিংসতার ঘটনায় হওয়া মামলা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় পুলিশ গুলি চালিয়েছে, সেখানে নির্বাহী তদন্ত করে গুলি চালানোর প্রয়োজন ছিল কি না তা-ও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

দুই ধাপের ইউপি নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত ২৫ জেলায় নিহত হয়েছে ৪৬ জন। এর মধ্যে নরসিংদীতে দুই দফায় মারা গেছে ৯ জন। এ ছাড়া কক্সবাজারে পাঁচ, মাগুরায় চার, বরিশালে তিন এবং গাইবান্ধা, মেহেরপুর, কমিল্লা ও ঢাকার ধামরাইয়ে দুজন করে নিহত হয়েছে। আর ভোলা, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, ফরিদপুর, সিলেট, নড়াইল, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর, রাজবাড়ী, রংপুর, পটুয়াখালী ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হয়েছে।

এর মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত হয়েছে ২১ জন। এর তিনজন মারা গেছে পুলিশের গুলিতে।

এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহিংসতায় ব্যবহৃত এসব অস্ত্রের উৎস কী, কারা এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে, কোথা থেকে অস্ত্র এসেছে তা নিয়ে প্রতিবেদন চেয়ে পাঠিয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল দুপুরে বলেন, অস্ত্র উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে জানা যাবে।

গতকাল পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারানো ৪৬ জনের মধ্যে গুলিতে নিহত হয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে কুমিল্লা, কক্সবাজার ও গাইবান্ধায় তিনজন পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানের শটগান জব্দ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বৈধ-অবৈধ কোনো ধরনের অস্ত্র বের করার সুযোগ নেই নির্বাচন চলাকালে।