আটালান্টাকে হারিয়ে দুই মৌসুম পর শেষ আটে রিয়াল

64

হ্যাটট্রিক শিরোপা। এরপরই যেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক আউট পর্বটা রীতিমতো দুর্গমই হয়ে দাঁড়িয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য। আটালান্টার বিপক্ষে শেষ ষোলর প্রথম দেখায় ১-০ গোলের জয়ও তাই স্বস্তি দিচ্ছিল না কোচ জিনেদিন জিদানকে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ফিরতি লেগে ইতালীয় প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অবশেষে শেষ আটে উঠে গেছে রিয়াল। টানা দুই মৌসুমে নকআউটে মুখ থুবড়ে পড়ার পর শেষ আটের টিকিট পেল দলটি।

কোচ জিদানের অস্বস্তি থাকবেই বা না কেন? সিরি’আয় এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা দলটিই যে আটালান্টা! প্রথম লেগ থেকে এক গোলে পিছিয়ে থাকা আটালান্টা মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানোয় সমতা ফেরাতে পারত ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই। ছয় গজের বক্সে সুযোগ পেয়েও ঠিকঠাক শটই নিতে পারেননি রবিন গোসেন্স।

গেল মৌসুমে দারুণ আক্রমণাত্মক কৌশলের বলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে ওঠা দলটি এরপরও বেশ কিছু আক্রমণ করে গেছে, তবে প্রতিপক্ষ বিপদসীমাতে যেতেই যেন আক্রমণগুলো মিলিয়ে গেছে প্রতিবার। এ সময়ে রক্ষণকে ঠিকই জমাট রেখেছে কোচ পিয়েরো গ্যাসপারিনির শিষ্যরা। রিয়াল নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে এলেও গোলমুখের দেখা পাচ্ছিল না তাই।

৩৪ মিনিটে নিজেদের ভুলেই প্রতিরোধ ভাঙে আটালান্টার। নিচ থেকে খেলা গড়ে ওপরে ওঠার কৌশলে খেলছিল দলটা। বলটা তখন ছিল গোলরক্ষক মার্কো স্পোর্তিয়েল্লোর কাছে। কারিম বেনজেমার প্রেসে ধরাশায়ী হয়ে বলটা ছাড়তে চেয়েছিলেন সামনে থাকা ডিফেন্ডারের কাছে, কিন্তু তা না হয়ে তা গিয়ে পড়ে লুকা মদ্রিচের পায়ে। ক্রোয়াট মিডফিল্ডার এরপর বক্সে এসে পাস বাড়ান বেনজেমাকে, সহজ সুযোগ নষ্ট করার পাত্র নন ফরাসি স্ট্রাইকার। তার গোলেই রিয়াল ম্যাচে ১-০ আর পুরো লড়াইয়ে এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত একটা অর্জনও করে বসেছেন তিনি। ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭০ গোলের কীর্তি গড়েন তিনি, আর একটি করলেই বসবেন কিংবদন্তি রাউল গনজালেসের পাশে।

গোলের পর সতীর্থ ভাসকেজের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস/ছবি: দ্য অ্যাথলেটিক

এর মিনিট ছয়েক পর ভিসিসিয়াস জুনিয়র বক্সের ঠিক ভেতরে ফাউলের শিকার হওয়ায় পেনাল্টি পায় রিয়াল। সেখান থেকে রামোসের গোল আটালান্টার লড়াইয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনাটাকে মিলিয়েই দেয় একেবারে।

আটালান্টা তবু চেষ্টা করে গেছে। ৭০ মিনিটের আশেপাশে দুভান জাপাতার দুটো শট ঠেকান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ৮৪ মিনিটে আর তা সম্ভব হয়নি তার পক্ষে। দারুণ এক ফ্রি কিকে ইতালীয় দলটিকে অসম্ভবের স্বপ্ন দেখান লুইস মুরিয়েল। তবে পরের মিনিটেই গোল করে সে স্বপ্নের সমাধি রচনা করেন মার্কো আসেনসিও। ফলে ৩-১ ব্যবধানের এক জয় নিয়ে টানা দুই মৌসুমের ব্যর্থতার পর কোয়ার্টার ফাইনালের দেখা পায় রিয়াল।