আবারও হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া

53

চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফেরার মাত্র ছয় দিনের মাথায় মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে আবারও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে বেগম জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালের ব্লক-বি’র ৭২০৫ ও ৭২০৪ নম্বর কেবিন বুকিং দেওয়া হয়েছে। সেখানেই ভর্তি হয়েছেন তিনি।

এদিন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় গুলশানের বাসা থেকে হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর ২৫ অক্টোবর তার ছোট একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর হয় বায়োপসি পরীক্ষা। এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে তা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়।

প্রায় এক মাসের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৫টায় ছাড়পত্র নিয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ ফিরেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন দীর্ঘদিন ধরে আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে তার করোনামুক্তির খবর দেওয়া হয় ৯ মে। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর, সব মিলিয়ে তখন প্রায় পৌনে দুই মাস হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে ১৯ জুন বাসায় ফেরেন তিনি। এর মধ্যে করোনার দুই ডোজ টিকাও নেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যান। মহামারি, স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় গত বছর তাকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি দেয় সরকার।