আরও এক হতাশার দিনে বাংলাদেশের ফলো-অনে পড়ার লজ্জা

7

এক ম্যাচ আগে ও পরে—চিত্রটা গেল একেবারেই বদলে। বোলাররা ভয় ধরাতে পারেননি। ব্যাটসম্যানরা হতাশ করেছেন আরও বেশি। মুশফিকুর রহিম-মাহমুদুল হাসান জয়ের অনুপুস্থিতি ভাবাচ্ছিল আগে থেকেই। সেই ভয় সত্যি হয়েছে। মাঝে কিছুক্ষণ লড়েছেন ইয়াসির আলি রাব্বি ও নুরুল হাসান সোহান।

কিন্তু সেটা যথেষ্ট হয়নি। ফলো অনেই পড়েছে মুমিনুল হকের দল। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫২১ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ১২৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড এগিয়ে আছে ৩৯৫ রানে।১ উইকেটে ৩৪৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে স্বাগতিকরা। এদিন শুরুতে অবশ্য দাপট দেখায় বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যেই আড়াইশ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। ৩৪ চার ও ২২ ছক্কায় ৩৭৩ বলে ২৫২ রান করে মুমিনুল হকের বলে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ পরই ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। দিনের শুরুর দিকে সেঞ্চুরি পূরণ করেন আরেক স্বাগতিক ব্যাটসম্যান ডেভেন কনওয়ে। ১৬৬ বলে ১০৯ রান করে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। ৬০ বলে ৫৭ রান আসে টম ব্লান্ডেলের ব্যাটে। বাংলাদেশের পক্ষে ২ উইকেট করে নেন এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম।

রানের পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ৮ বলে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান ওপেনার সাদমান ইসলাম।

শততম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হওয়া নাঈম শেখ ফিরে যান ডাক মেরে। তার ভালো না করতে পারাটা ছিল অনুমিতই। গত দু বছর ধরে খেলেননি কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, যখন খেলেছেন তখনকার রেকর্ডও সুখকর নয়। এমন একজন ক্রিকেটারকে কেন টেস্টে, সেটাও আবার নিউজিল্যান্ডের সবুজ উইকেটে অভিষেক করানো হলো এ নিয়েও প্রশ্ন আছে।

নাঈমের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও লিটন দাসও। চা বিরতির আগেই ৪ রান করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও শূন্য রানে ফেরেন মুমিনুল হক। আর এই বিরতির পর ১৮ বলে ৮ রান করা লিটনও আউট হন।

৬০ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সোহান ও রাব্বি। ৬২ বলে ৪১ রান করে এলবিডব্লিউ হন সোহান। রিভিউ নিলেও তাকে আম্পায়ারস কলের শিকার হয়ে ফিরতে হয় সাজঘরে। তিনি ফিরলেও ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা পেয়েছেন ইয়াসির আলি রাব্বি।

৯৫ বলে ৫৫ রান করে এই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলেও বাংলাদেশের অলআউট হতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। এরপরই দিনের খেলা শেষের ঘোষণা দেন আম্পায়াররা। কিউইদের পক্ষে ৫ উইকেট নেন বোল্ট। এই ম্যাচেই তিনি পূরণ করেছেন তিনশ উইকেটের মাইলফলক। টেস্টে আরও একটি হতাশার দিন কাটানো বাংলাদেশ পড়েছে ফলো-অনের লজ্জায়।