ওমিক্রন উপসর্গ মৃদু নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

9

বিশ্বে মহামারির মধ্যে গত সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ লাখ মানুষ। বিশ্বজুড়ে ওমিক্রন সুনামি ছড়িয়ে পড়ার পর সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার হার ৭১ শতাংশ। এই রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের কথা উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, এটিকে মৃদু বলে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) সংস্থাটির প্রধান বলেছেন, গত সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে। তিনি বলেন, বছর শেষে ছুটির কারণে এবং পরিস্থিতিকে অগ্রাহ্য করার কারণে বেড়েছে সংক্রমণ।

তেদ্রস আধানম বলেন, করোনার অন্যান্য ধরনের মতো ওমিক্রনের কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং এটি মৃত্যু ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, সুনামির ন্যায় ছড়ানো ওমিক্রন পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলছে। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সাপ্তাহিক হিসাবে ৯৫ লাখ ২০ হাজার ৪৮৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছেন, ৪১ হাজার ১৭৮ জন। এর আগের সপ্তাহে করোনায় মারা যান ৪৪ হাজার ৬৮০ জন।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, করোনার অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রন ডেল্টার পর এখন বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, গত সপ্তাহে আমেরিকান অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু আফ্রিকায় সংক্রমণ বেড়েছে মাত্র ৭ শতাংশ।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সর্বপ্রথম ধরা পরে দক্ষিণ আফ্রিকায়। গত ২৪ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও) বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববাসীকে। একই সঙ্গে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানায়। অতি দ্রুত সংক্রমণশীল এই ধরন এখন বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়েছে। কোনো কোনো দেশ ওমিক্রন ঠেকাতে পুনরায় চালু করেছে বিধিনিষেধ।

এদিকে, করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই চলছে টিকাদান কর্মসূচি। ওমিক্রন ঠেকাতে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে বুস্টার ডোজ দেওয়া। ইসরায়েল করোনার চার ডোজ দেওয়াও শুরু করেছে। তবে ওমিক্রন আসলে কতটা ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে সে ব্যাপারে খুঁটিনাটি জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তবে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলছেন তারা।

সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি