খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে : ফখরুল

61

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তার চিকিৎসা বাংলাদেশে দিনে দিনে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২২ বছর পর কৃষক দলের সম্মেলন হচ্ছে। সবশেষ বিএনপির এই অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ১৬ মে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি ভীষণ অসুস্থ। এই দুই-তিনদিন আগে তাকে আরও ছয়মাস সাজা স্থগিত করছে বলছে। কোথায় সাজা স্থগিত করছে? আমরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। তাকে নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা তাকে (খালেদা জিয়া) গৃহবন্দি করে রেখেছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চেয়েছেন, সেটাও আপনারা দেননি। আপনারা তাকে বাংলাদেশে রেখেই চিকিৎসা করতে বলছেন। যেখানে তার চিকিৎসা দিনে দিনে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। সেই কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগকে যদি বাঁচাতে চান, তাহলে অবিলম্বে আপনারা যা করেছেন তার জন্য মাফ চেয়ে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। পদত্যাগ করেন, নির্বাচন দেন। নতুন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনে নতুন সরকার আসুক, নতুন পার্লামেন্ট আসুক।’

কৃষকদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের সংগঠিত করতে হবে। তাদের অধিকার আদায় করতে কৃষক দলকে সক্রিয় হতে হবে। খালেদা জিয়া ৫ হাজার টাকার কৃষক ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দিয়েছিলেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই কৃষকদের ঋণ সহজ করে দিয়েছে।’

‘এই সরকার এখন পর্যন্ত কৃষকদের জন্য এমন কিছু করেনি, যা দিয়ে তারা বলতে পারবে আমরা কৃষকদের জন্য এ কাজগুলো করেছি। করোনাকালে প্রণোদনা দিয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে, কৃষি ক্ষেত্রেও দিয়েছে। কিন্তু কৃষি ক্ষেত্রের টাকাগুলো তাদের নেতারা (আওয়ামী লীগ) পকেটে ভরে নিয়েছে। আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার কথা ছিল সেটাও তারা পকেটে ভরে নিয়েছে। এই সরকার লুটেরা সরকারে পরিণত হয়েছে’ বলেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। চমৎকার, চমৎকার আসনে বসেন। ফিরোজা রঙের আসনে বসে তিনি প্রতিদিন বিএনপির বিরুদ্ধে বিষদাগার করেন। তিনি বিএনপিকে রোজ ধমক দেন, শিক্ষা দেন। অথচ নিজের ঘর সামলাতে পারেন না।’

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনার ভাই কাদের মির্জা সাহেব যে সব কথা আপনার সম্পর্কে বলেন, আপনার দলের নেতাদের সম্পর্কে বলে; সেটার পরে আপনাদের থাকার কথা না। পদত্যাগ করা উচিত। আপনার নিজের ঘরে নিজেরা মারামারি করে দুইজনকে হত্যা করেছেন। কোনো বিচার নেই। এটাই সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র।

উন্নয়নের নামে সরকার লুট করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে পত্রিকায় দেখলাম দ্রুতগামী ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার জন্য। চীনা দু’টি কোম্পানি সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এটা করে দিতে চায়। পয়সা দেবে কে? পয়সা ওরা (চীন) এখন দেবে এবং সরকার পরে আমাদের পকেট কেটে নেবে। এই উন্নয়নে লাভবান হচ্ছে কে? আপনাদের দলের কিছু মানুষ। যারা কমিশন এজেন্সি করে, দালালি করে। সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হচ্ছে না।’

এ ব্যবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে কৃষক দলকে এলাকায় গিয়ে কৃষকদেরকে সংগঠিত করে গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করার আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

এর আগে সকাল ১০টায় মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, রঙিন বেলুন ও সাদা কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

বিকেল তিনটায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে সারাদেশে থেকে আসা সংগঠনের ৫৪৮ জন কাউন্সিলর অর্থাৎ ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার ৩৯৫ জন এবং কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১৫৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যের সমাপ্তিতে সংগঠনের বিধান অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কৃষক দলের ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও সদস্য এস কে সাদীর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষক দলের সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, নাজিম উদ্দিন, আফতাব উদ্দিন আহমেদ মন্ডল, জামাল উদ্দিন মিলন, এম এ হালিম, নাসির হায়দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ, লুতফুর রহমান, মাহমুদুল হক সানু, শরীফুল ইসলাম মোল্লা, মহসিন আহমেদ তুষার, আনোয়ারুল হক, এনায়েতুল্লাহ খোকন, রবিউল হাসান পলাশ, সালাহউদ্দিন খান মিলকী, নাসিরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, রফিকুল আলম রফিক, মাহবুবুর রহমান আউয়াল, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা বক্তৃতা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন তকদির হোসেন জসিম। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহিদুল ইসলাম বাবুল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আবদুল খালেক, আমিরুজ্জামান শিমুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম ও ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল উপস্থিত ছিলেন।