ঘুমিয়ে যে ৫ উপায়ে ওজন কমাবেন

37

ওজন কমানো সহজ বা একদিনের কোন বিষয় না। খাওয়া- দাওয়া নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম থেকে শুরু করে আরো অনেক বিষয় ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে ভালো ঘুম ওজন কমাতে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন শরীরের বাকি ক্রিয়াকলাপ চালু থাকে। আর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু রাতে কম ঘুম আপনার মেজাজকে বিক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে সেই সাথে বাড়বে ওজন।

কম ঘুম যেভাবে ওজন বাড়ায়:

আট ঘণ্টার কম ঘুমালে দুঃশ্চিন্তা বাড়ে সেই সাথে হরমোন কার্টিসেল নিঃসরণ বেড়ে যায়।  এর ফলে মেটাবলিজম কমে যায়। কম ঘুম ক্ষুধার হরমোনকে ব্যাহত করে আপনাকে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। সেই সাথে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে আরো জটিলতা বৃদ্ধি পায়।

গবেষণা বলছে, এক রাতের খারাপ ‍ঘুম মেটাবলিজমকে ধীর করে দেয় এবং কর্মশক্তি ২০ শতাংশ কমিয়ে ফেলে।

রাতে ভার উত্তোলন:

রাতের বেলা ভার উত্তোলন আপনার পরবর্তী ১৬ ঘণ্টার জন্য মেটাবলিজমকে বৃদ্ধি করে। একটি গবেষণায় সকাল বনাম সন্ধ্যার ব্যায়ামের ফলাফল সম্পর্কে বলা হয়েছে রাতের পরিশ্রম ওজন কমাতে বেশি কাজ করে। আবার  সন্ধ্যায় যারা ব্যায়াম করে তাদের মধ্যে গ্লুকোজের মাত্রা কম দেখা যায়।

কেসিন প্রোটিন শেক:

কেসিন প্রোটিন শেক খাওয়ার পর তা সারা রাত ধরে হজম হতে থাকে। এতে করে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়।  এটি ধীরে ধীরে  অ্যামিনো এসিড নিঃসরণ করে । এজন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রোটিন শেক খাওয়া উচিত। ঘুমানোর সময় পেশীর ক্ষয় কমাতে এটি খেতে পারেন।

ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল:

জিমের পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীর থেকে ল্যাকটিক এসিড বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ব্রাউন ফ্যাট সক্রিয় হয়ে যায় এবং ক্যালোরি বার্ন করতে সহায়তা করে। ব্রাউন ফ্যাট ঘাড়ের পিছনে ও কাঁধে জমা থাকে। আপনার শরীরের ব্রাউন ফ্যাটকে সক্রিয় করতে ৩০ সেকেন্ড ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ যথেষ্ঠ।

গ্রিন টি:

গ্রিন টিতে যে ফ্লাভোনয়েড থাকে তা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তিন কাপ গ্রিন টি পান করলে ঘুমের সময় আপনার শতকরা ৩.৫ ভাগ বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে।

ইন্টারমিটেন্ট ফাসটিং

ইন্টারমিটেন্ট ফাসটিং বা উপবাসের কথা আমরা কম বেশি সবাই জানি। এই ফাসটিংয়ের সময় শরীর থেকে চিনি নিঃসরিত হয় এবং ফ্যাট বার্ন হতে শুরু করে। এর ফলে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়।   ক্যালোরি কমাতে ইন্টারমিটেন্ট ফাসটিং এর তুলনা হয় না।