ঘুরে আসুন তিন দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা মহেশখালী

7

মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। সোনাদিয়া, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা নামে ৩টি দ্বীপ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা। ১৮৫৪ সালে গড়ে ওঠা এই দ্বীপ পান, মাছ, শুটকি, চিংড়ি, লবণ ও মুক্তার উৎপাদনের কারণে সুনাম অর্জন করলেও এখানকার মূল আকর্ষণ মিষ্টি পান। মহেশখালী এই মিষ্টি পানের জন্যে দেশ জুড়ে বিখ্যাত।

দ্বীপে যা আছে : আগেই বলা হয়েছে, মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। প্রতি বছরের ফাল্গুন মাসে এই দ্বীপে আদিনাথ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এটি দেখতে সারাদেশ থেকে লোকজন আসে। এছাড়াও এ দ্বীপে আছে-

১। সোনাদিয়া দ্বীপ

২। আদিনাথ মন্দির ও আদিনাথ মেলা

৩। বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির

৪। রাখাইন পাড়া

৫। স্বর্ণ মন্দির

৬। মৈনাক পর্বত

যেভাবে ঘুরবেন : মহেশখালী ১ নং জেটি ঘাট থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ করে প্রথমেই যেতে পারেন বড় বৌদ্ধ কেয়াং বা মন্দির। এর ভেতরে আছে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির। কয়েকটি পিতলের বৌদ্ধ মূর্তিও আছে এখানে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধ্যানমগ্ন বুদ্ধ, মাথায় হাতে শায়িত বুদ্ধ এবং দণ্ডায়মান বুদ্ধ ইত্যাদি। পথে যেতেই পানের বরজ চোখে পড়বে। বৌদ্ধ মন্দির থেকে বেরিয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে স্বর্ণমূর্তি দেখতে। তারপর শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দিরে চলে যান। পাহাড় বেয়ে যেতে হবে মৈনাক পাহাড়ে। লোকমুখে প্রচলিত, ৫০০ থেকে ৬০০ বছরের পুরনো মন্দিরের কারুকার্য সুন্দর। মৈনাক পাহাড় থেকে ম্যানগ্রোভ বন, সমুদ্র এবং পুরো মহেশখালী দেখতে পাওয়া যায়। পাহাড়ের ঢালে পানের চাষ দেখা যায়। মন্দির থেকে নেমে পাশের আরেকটি জেটি ধরে সমুদ্রের কাছে চলে যেতে পারবেন। কেওড়া, গোলপাতাসহ সুন্দরী গাছের মনোরম দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় লবণ চাষাবাদ করার জায়গা আর শুটকি পল্লীতেও ঘুরতে পারেন।

যেভাবে যাবেন : সড়কপথে ও আকাশপথে প্রথমে কক্সবাজার যেতে হবে। ভাড়া ১৬০০-২০০০ টাকা। কক্সবাজার কলাতলী সুগন্ধা বা লাবণী পয়েন্ট থেকেই ৬ নং জেটি ঘাট যাওয়া যাবে। ৬ নং জেটি ঘাট আসার পর স্পিড বোটে করে মহেশখালী ১ নং জেটি ঘাট যেতে হবে। স্পিডবোটে ৭৫ টাকা ভাড়া। এছাড়া নৌকা বা লঞ্চ করেও অল্প সময়েই মহেশখালী পৌঁছানো যায়। প্রতিদিন সকাল বিকেলে কক্সবাজার বাহার ছড়া ঘাট থেকে মহেশখালী যাওয়া যায়। ট্রলার জাতীয় নৌকায় জনপ্রতি ৩০ টাকায় প্রায় এক ঘণ্টায় মহেশখালী যাওয়া যায়। ঘাটে নেমে অটোরিকশা রিজার্ভ নিতে পারবেন। দরদাম করে ৫০০ টাকায় পাবেন। সময় বেশি থাকলে সোনাদিয়া দ্বীপেও যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সি এন জি ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা পড়বে।

থাকার ব্যবস্থা : মহেশখালীতে খাবারের জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল থাকলেও থাকার জন্য ভালো মানের তেমন কোন হোটেল নেই। যেহেতু পর্যটকরা কক্সবাজার থেকে ডে ট্রিপে মহেশখালী ভ্রমণে যেয়ে থাকেন তাই এই দ্বীপে এখনও সেভাবে থাকার হোটেল বা রিসোর্ট গড়ে ওঠে নি।