চকরিয়ায় তিন ইউনিয়নে নিয়মবর্হিভুত কাজী নিয়োগের পাঁয়তারা !

14

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে পাঁচ ও সাত বছর পূর্বের পুরোনো দুইটি চিঠির সূত্র ধরে আইনের তোয়াক্কা না করে নিয়মবর্হিভূত ভাবে নিকাহ্ ও তালাক রেজিষ্টার (কাজী) নিয়োগে পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বিরুদ্ধে। যে সব ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে তা হলো বরইতলী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী ইউনিয়ন। নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে এ নিয়ে গোপনে গঠিত তিনটি প্যানেল তৈরী করে নিয়োগ দেয়ার জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছে উপজেলা সাব রেজিষ্টার এমনটা দাবী একাধিক প্রার্থীর।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর ৩৯০ (৮) নং স্মারকে বদরখালী ইউনিয়ন এবং ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ২৮০ (৫) নং স্মারকে উপজেলার বরইতলী ও ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার (কাজী) নিয়োগে প্যানেল প্রস্তুতের নিমিত্তে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন নিয়োগ সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার। কিন্তু আইনী জটিলতার কারণে সে মময় কাজী নিয়োগ হয়নি। এদিকে পূর্বের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল না করে সাত বছর ও পাঁচ বছরের পুরানো বিজ্ঞপ্তির আলোকেই সম্প্রতিতে গোপনে তিন ইউনিয়নের জন্য তিনটি প্যানেল তৈরী করে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে চকরিয়া উপজেলার সাব রেজিষ্টার অমিত মঙ্গল চাকমা।

অভিযোগে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়ন থেকে সাব রেজিষ্টারের পছন্দের প্রার্থী ফরহাদকে এ ইউনিয়নের কাজী হিসেবে নিয়োগ পাইয়ে দিতে ওই ইউনিয়ন থেকে গোপনে একটি সাজানো প্যানেল তৈরী করা হয়। ফরহাদ বরইতলী ইউনিয়নের ৮ ওয়ার্ডের ফতেহ আলী মাতবর পাড়া গ্রামের জুনাইদের ছেলে। অপরদিকে বদরখালী ইউনিয়নেও একই ভাবে রুহুল কাদের নামের এক ব্যক্তিকে প্যানেলভুক্ত করে নিযোগ দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে এমনই অভিযোগ সাব রেজিষ্টার বিরুদ্ধে। রুহুল কাদের বদরখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাতিনাখালী পাড়া গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে।

জানা গেছে, নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কাজী নিয়োগের জন্য আইনী প্রক্রিয়া থাকার পরও বিগত ২০১৫ ও ২০১৭ সালের পুরোনো বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ পাইয়ে দিতে সম্প্রতি গোপন সভা দেখিয়ে প্যানেল তৈরির কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার একাধিক প্রার্থী।

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ইউনিয়নে কাজী নিয়োগের জন্য হাল নাগাদ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ৫/৭ বছরের পুরানো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে কাজী নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া কোন ভাবেই গ্রাহ্য হয় না। মিটিংয়ের মাধ্যমেই প্যানেল তৈরী করে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে।

এ ব্যাপারে কাজী নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্টার অমিত মঙ্গল চাকমার সাখে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরানো বিজ্ঞপ্তির আলোকেই প্যানেল তৈরী করে নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু আইনী জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন কাজী নিয়োগ স্থগিত ছিল। বর্তমানে আইনী জটিলতা দুর হলে পুর্বের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে কাজী নিয়োগ করা হলে অনিয়ম হওয়ার কথা নয় বলে তিনি দাবী করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাজী নিয়োগ কমিটির সদস্য জেপি দেওয়ানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত রয়েছি। আইনী জঠিলতা থাকার কারণে এতোদিন কাজী নিয়োগ দেয়া সম্ভব হয়নি। পুরানো বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে সাব রেজিষ্টারের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।