চতুর্থ দিনের লকডাউনেও রাজধানী ফাঁকা

42

সরকার ঘোষিত সাতদিনব্যাপী কঠোর লকডাউনের প্রথম. দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিন রাজধানীতে কার্যকারিতা দেখতে এসে অনেকে আটক ও গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে সময় যত গড়িয়েছে,তত রাজধানীতে মানুষ ও যান চলাচল কমেছে। আজ চতুর্থ দিন আগের তুলনায় আরও ফাঁকা রাজধানী। যদিও বৃষ্টির বাগড়া এর অন্যতম কারণ। গেল চার দিন ধরেই কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশজুড়ে। এ কারণে লকডাউন অনেকটা কাজে এসেছে। সে সঙ্গে লকডাউন কার্যকরে মাঠে রয়েছেন পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা। লকডাউনের শুরু থেকেই বিভিন্ন জায়গায় টহল দিতে দেখা গেছে তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলে জরিমানা এবং গ্রেফতারও করা হচ্ছে। তবে জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তল্লাশির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়ে গন্তব্যে বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন।

salman-1লকডাউনের চতুর্থ দিনে রাজধনীর রাস্তাঘাট ছিল প্রায় ফাঁকা

লকডাউনে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হওয়ায় রাজধানীতে প্রথম দিন ৫৫০ এবং দ্বিতীয় দিন ৩২০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে র‌্যাবের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দেশব্যাপী বৃহস্পতিবার ১৮২ জনকে জরিমানায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং শুক্রবারের অভিযানে ২১৩ জনের জরিমানায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ টাকা আদায় করা হয়।

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অযথা এবং অযৌক্তিক কারণে বাইরে বের হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে গতকাল শনিবারও (৩ জুলাই) রাজধানী থেকে ৬২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আটটি বিভাগের সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তৃতীয় দিনে ৩৪৬ জনকে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানাও করা হয় বলে জানায় ডিএমপি।

অন্যদিকে লকডাউনের তৃতীয় দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় সারাদেশে ২৭৭ জনকে প্রায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাব। সারা দেশে ৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, লকডাউনের মধ্যে আজ রবিবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে। নতুন নির্দেশনায়, কঠোর এই লকডাউন চলাকালে ব্যাংক সপ্তাহে চার দিন, প্রতিদিন সাড়ে ৩ ঘণ্টা চলছে লেনদেন। এই সময়ে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি রবিবারও ব্যাংক বন্ধ থাকছে।

গত ২৬ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ১ জুলাই থেকে সাতদিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে মাস্ক পরে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। তাছাড়া চলমান লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ আছে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সব অফিস। কঠোর লকডাউন চলবে ৭ জুলাই পর্যন্ত ।