জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান

48

ম্যাচটা জিতে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এলটন চিগুম্বুরাকে বিদায়ী উপহার দিতে চেয়েছিল জিম্বাবুয়ে।  কিন্তু সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে সফরকারীদের সব আয়োজনে জল ঢেলে দিল পাকিস্তান।

সেই সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজটাও ঘরে তুলল স্বাগতিকরা।

 

আগেই দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে অনেকটা নির্ভার হয়েই নেমেছিল পাকিস্তান। তারপরও জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে ১২৯ রান নিয়ে। জবাবে দুই তরুণ ব্যাটসম্যান আবদুল্লাহ শফিক ও খুশদিল শাহর ব্যাটে সহজেই জয় ছিনিয়ে নেয় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের জয়ের আসল নায়ক কিংবদন্তি স্পিনার আবদুল কাদিরের ছেলে উসমান কাদির। মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা এই তরুণ স্পিনারের বল রীতিমত দুর্বোধ্য হয়ে ধরা দেয় জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের সামনে। অবশ্য তিনি বোলিংয়ে আসার আগেই জিম্বাবুয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন ইমাস ওয়াসিম ও হারিস রউফ। তবে জিম্বাবুয়েকে সেই ধাক্কা সামলে ওঠার কোনো সুযোগ দেননি কাদির।

নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই জিম্বাবুয়ে ইনিংসের টপ স্কোরার চামু চিবাবার উইকেট তুলে নেন উসমান কাদির। ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে এসে আরও ২ উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৭৬/৬ বানিয়ে দেন তিনি। নিজের শেষ ওভারে আরও এক উইকেট তুলে নিয়ে কাদির ম্যাচের সেরা বোলিং ফিগারের মালিক হয়ে যান। মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বলার মতো রান পেয়েছেন শুধু চিবাবা ও তিরিপানো। সফরকারীদের অধিনায়ক খেলেছেন ২৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস। আর তিরিপানোর ব্যাট থেকে এসেছে ২২ বলে ২৮ রান। তৃতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে অতিরিক্ত (১৭) থেকে। বল হাতে পাকিস্তানের উসমান কাদিরের ৪ উইকেটের পাশাপাশি ২ উইকেট পেয়েছেন ইমাদ। ১টি করে উইকেট গেছে মোহাম্মদ হাসনাইন ও হারিস রউফের দখলে।

বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা চিগুম্বুরা বোলিং করার সুযোগ পাননি। ব্যাট হাতে করেছেন ৬ বলে ২ রান। সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে যদিও গার্ড অব অনার দিয়েছিল পাকিস্তান দল, কিন্তু মাঠে কোনো ছাড় দেয়নি। কাদিরের গুগলিতে পরাস্ত হয়েছেন তিনি। দলের অন্য দুই বড় তারকা ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভিন মিলে করেছেন মাত্র ১২ রান।

সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে বেশ সাবধানী ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান। প্রথম ৪ ওভারে দুই ওপেনার ফখর জামান ও শাফিক মিলে তোলেন মাত্র ১৯ রান। পাওয়ার প্লের পরই বিদায় নেন ফখর (২১)। তবে ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেন শফিক। পরে হায়দার আলী ২৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও খুশদিল শাহকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শাফিক (৪১*)। মাত্র ১৫ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন খুশদিল।