জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চারনেতার প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিনম্র শ্রদ্ধা

74

আজ ৩ নভেম্বর, শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু’র নেতৃত্বে দিনের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও বনানী গোরস্থানে শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাহউল হোসেন সাচ্চু, সহ- সভাপতি আব্দুল আলীম বেপারী, মজিবর রহমান স্বপন, দেবাশীষ বিশ্বাস, আব্দুস ছালাম, সুব্রত পুরকায়স্থ, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, আবদুল্লাহ আল সায়েম, মেহেদী মোল্লা, আরিফুর রহমান টিটু, মুকুল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুল হক খান, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি ইসহাক মিয়া, উপ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক তানভির আহমেদ সিপারসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় শোকাবহ এই দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার আড়াই মাসের মাথায় ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন অবঃ এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান কে নৃশংসভাবে হত্যা করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে হত্যা ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকান্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তির ঘৃণ্য অপকর্মের ধারাবাহিকতা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারের যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই চার জাতীয় নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন ইতিহাসের এই বর্বোরচিত ন্যাক্কারজনক হত্যার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ২১ বছর বন্ধ রাখা হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে জেলহত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে অতঃপর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে ২০ জন আসামীর মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি ও ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তন্মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুদন্ড ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে কেবল রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে বাকী ২ জনকে খালাস এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ১২ জনের মধ্য থেকে চার আসামীকে খালাস প্রদান করা হয়। ইতিহাসের ঘৃণ্য বর্বরোচিত জগন্যতম এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত অপশক্তি, দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার জাতির পিতার হত্যাকারী ও চার জাতীয় নেতা হত্যাকারীর বিচার কাজ সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আজকের এইদিনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতীয় চারনেতাকে বিনম্র শ্রদ্ধা ভালোবাসায় স্মরণ করছে।