টাইগারদের ১৬২ রানের লক্ষ্য দিল কিউইরা

27

সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। এবার শেষ ভালোয় চোখ বাংলাদেশের। মিরপুরে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সামনে ১৬২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যই ছুড়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে সফরকারিরা। এটিই চলতি সিরিজে দুই দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

আজ জিতলে পাঁচ ম্যাচ সিরিজটা ৪-১ ব্যবধানে শেষ করবে টাইগাররা। ঘরের মাঠে আগের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকেও একই ব্যবধানে হারিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

শেরে বাংলায় আবারও টসভাগ্য ছিল নিউজিল্যান্ডের পক্ষে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রাচিন রবিন্দ্র আর ফিন অ্যালেন।

মূল ভূমিকাটা অ্যালেনেরই। চার-ছক্কায় মাঠ গরম করে রাখছিলেন তিনি, রবিন্দ্র শুধু সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের ৩৪ বলে ৫৮ রানের ঝড়ো জুটিটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম, ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে।

jagonews24

শরিফুলকে তুলে মারতে গিয়ে বল আকাশে ভাসিয়ে দেন রবিন্দ্র (১২ বলে ১৭)। মিডঅফ থেকে দৌড়ে এসে দারুণ এক ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহীম। ওই ওভারেই এক বল বিরতি দিয়ে ভয়ংকর অ্যালেনকেও তুলে নেন শরিফুল।

বাঁহাতি এই পেসারের দারুণ এক ডেলিভারিতে পেছনের স্ট্যাম্প উম্মুক্ত করে বোল্ড হন অ্যালেন। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় কিউই ওপেনার করেন ৪১ রান। সেই ধাক্কাটাই কাজে দিয়েছে।

এরপর দ্রুত আরও দুটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেনের ঘূর্ণিতে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ হন উইল ইয়ং (৬)। আরও একবার ব্যর্থ কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম।

সিরিজে চতুর্থবারের মতো নাসুম আহমেদের শিকার হন গ্র্যান্ডহোম (৯)। এবারও বল আকাশে ভাসিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। মিডঅফে দৌড়ে এসে ক্যাচ নেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।

তাতে কিউইদের রানের গতি স্লথ হয়ে পড়ে। ১১ থেকে ১৪-চার ওভারে সফরকারিরা তুলতে পারে মাত্র ১৫ রান। টম ল্যাথাম আর হেনির নিকোলস চালিয়ে খেলার বদলে ধরে খেলায় মনোযোগ দেন।

তাদের ৩৪ বলে ৩৫ রানের জুটিটি ইনিংসের ১৭তম ওভারে ভাঙেন তাসকিন। এই উইকেট শিকারে অবশ্য কিপার নুরুল হাসান সোহানেরও অবদান কম নয়। তাসকিনের ওয়াইড ইয়র্কারে ব্যাট চালিয়েছিলেন নিকোলস (২১ বলে ২১), ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন সোহান।

তবে শেষদিকে ২১ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো জুটিতে দলকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি এনে দিয়েছেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম আর কোল ম্যাকঞ্চি। ল্যাথাম ৩৭ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ৫০ আর ম্যাকঞ্চি ১০ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল। তবে ২ উইকেট নিলেও ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করেন বাঁহাতি এই পেসার।

তাসকিন ৪ ওভারে ৩৪, নাসুম ৩ ওভারে ২৫ আর আফিফ ৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন একটি করে উইকেট।