টিকা দেয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর করার ভাবনা

39

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‌‘দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে পুনরায় গতিশীল করতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সh নাগরিককে ক্রমান্বয়ে টিকার আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব নাগরিককে ক্রমান্বয়ে টিকার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর।’

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তন থেকে জুম কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড আইসিইউ বেড সম্প্রসারণ ও বহির্বিভাগ (ওপিডি) শেড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‌‘বর্তমানে সরকারের হাতে ৪৫ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। গতকাল (১৪ জুলাই) থেকেই টিকা কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে। সরকার আগেই চীনের ২০ লাখ ডোজ টিকা হাতে পেয়েছে। আরও দেড় কোটি টিকা প্রতি মাসেই দেশে আসতে থাকবে। এদের পাশাপাশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ ডোজ বরাদ্দ রয়েছে। দেশে যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় ছিলেন তারা এই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা থেকে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি ফাইজারের টিকাও আগামী মাসে আসবে। দেশে তিন কোটি টিকা মজুত রাখার সক্ষমতা স্বাস্থ্য খাতের হাতে রয়েছে। সুতরাং বিদেশ থেকে টিকা এনে তা ভালোভাবে রেখে বণ্টন করতে কোনো সমস্যা হবে না।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় নতুন করে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও চার হাজার নার্স নিয়োগের কাজ চলমান। পাশাপাশি টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজও চলমান রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেলে নতুন করে ১৩টি আইসিইউ বেড, একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও চারটি ভেন্টিলেটর স্থাপন কোভিড-১৯ চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় ঢাকা মেডিকেলে চারটি ভেন্টিলেটর উপহার দেন ব্যবসায়ী মো. মাসুদ রানা।

স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা হওয়া উচিত যারা স্বাস্থ্যখাত নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করে তাদের নিয়ে, যারা মুখে মাস্ক পরে না তাদের নিয়ে। দেশে এখনো খাদ্যের অভাব নেই, শিল্প বন্ধ হয়নি, স্বাস্থ্যসেবা চলমান, তাহলে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কেন এত চক্রান্ত? এ চক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে ম্লান করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।