টিকা নেয়ার সময় আমার কথা মনে রাখবেন: ট্রাম্প

62

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার সময় সবাই তার কথা মনে রাখবেন বলে তিনি আশা করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট না থাকলে কখনোই এই টিকা পাওয়া সম্ভব হতো না বলে মনে করেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জনসন অ্যান্ড জনসনের কাছ থেকে এক কোটি টিকা সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করার পরপরই ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

এক বছর আগে এই ১১ মার্চই মার্কিন কংগ্রেসে করোনাভাইরাস নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি সে সময় কংগ্রেসে পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে ফাউসির সেসব কথায় খুব বেশি গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক জরিপ ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭২১ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ২ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৯০২ জন।

২০২০ সালের গত ডিসেম্বর মাস থেকে দেশটিতে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরই জো বাইডেন ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, টিকা কার্যক্রমের কৃতিত্ব শুধুই তার।

যদিও করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্ভট কথাবার্তা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে সাধারণ ফ্লু হিসেবে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। নিজেও করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

টিকা আসার পর জো বাইডেন প্রকাশ্যে টিকা নিয়েছেন। তবে ট্রাম্প কবে টিকা নিয়েছেন, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। পরে জানা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জানুয়ারির শুরুতেই টিকা নিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে জনস্বার্থ প্রচারণামূলক একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছেন সাবেক চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার। মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহিত করতে দুটি বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে তাদের। এ প্রচারকাজে তাদের সঙ্গে দেখা যাবে চার সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, লরা বুশ, হিলারি ক্লিনটন ও রোজালিন কার্টারকেও। তবে ট্রাম্প ও মেলানিয়াকে এ ধরনের কোনো প্রচারে দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখের বেশি মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলছে, দেশটির প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়া হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবীরা আশা করছেন এই গ্রীষ্মেই বেশির ভাগ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে আগামী ১ মের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, করোনার টিকা দেওয়া হলে আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে আমেরিকার মানুষ ছোট আকারে মিলিত হতে পারে।

শুক্রবার (১২ মার্চ) বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম প্রাইমটাইম ভাষণে এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় বাইডেন বলেন, আমরা যদি ৪ জুলাইয়ের মধ্যে টিকা নিতে পারি, তাহলে আপনার নিজের, পরিবারের ও বন্ধুদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মিলিত হওয়ার ভালো সুযোগ আছে। শুধু স্বাধীনতা দিবস উদযাপনেই নয়; বরং ‘করোনাভাইরাস থেকেও স্বাধীনতা অর্জনের’ জন্য সক্ষম হবে।

ক্ষমতায় যাওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন আমেরিকানকে টিকা দেয়ার কথা বলেছিলেন বাইডেন। তবে এবার তার ভাষণে তিনি বলেছেন, সেই টার্গেট ৬০ দিনেই অর্জিত হয়েছে। তিনি যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তাতে টিকাদান কেন্দ্র ও টিকা দেওয়ার জন্য জনবলও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া কিছু ভ্রাম্যমাণ টিম গিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টিকা প্রদান করবেন।

তিনি স্বাস্থ্যবিধি মানা বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ও মাস্ক পরতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।