ডিআইজি আক্তারুজ্জামানের ভালবাসায় মুগ্ধ দিনমজুর আলামিনের পরিবার

60
আলামিন ও তার পুত্র

মো. সুজন মোল্লা

 

সমাজের রন্ধে রন্ধে যেমন খারাপ মানুষ আছে, ঠিক তেমনি ভাল মানুষও আছে। তেমনি একজন ভাল মানুষ এস এম আক্তারুজ্জামান। যিনি বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি (উপ মহাপরিদর্শক) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে দ্বায়ীত্বরত রয়েছেন। তার মহানুভবতায় সস্তি এল এক হতদরিদ্র পরিবারে। করোনাকালে সন্তানের বিপদে কেউ যখন পাশে আসেনি, তখন আসলেন ডিআইজি আক্তারুজ্জামান। তার উদ্যোগেই পুত্র শাহ জালালের চিকিৎসা জন্য কোন টাকা খরচ করতে হয়নি দিনমজুর আলামিনের। ছেলের শুধু চিকিৎসাই নয়, ঔষধেরও ব্যবস্থা করেদিলেন ডিআইজি।  তার এমন ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে দিনমজুর আলামিনের পরিবার  আল্লাহ্ দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করলেন।

বরিশাল পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান

জানা যায়, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের আলামিন আকনের ৩ বছর ১০ মাস বয়সের শিশু সন্তান শাহ জালাল পা পিছলে পড়ে গেলে পায়ের গোড়ালির হাড় ফাকা হয়ে যায়।

১২ জুলাই (সোমবার) পুত্র শাহ জালালকে নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন হতদরিদ্র দিনমজুর পিতা আলামিন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে শিশুটির এক্সরে করাতে বলেন। ওই হাসপাতালের এক্সরে বিভাগে এক্সরে হয় শিশু শাহ জালালের। সেখানে দিনমজুর পিতাকে গুনতে হয়েছে ২শ ৫০ টাকা।

এক্সরে রিপোর্ট নিয়ে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে আসলে বলা হয় ব্যান্ডেজ করতে হবে তাতে ৭শ টাকা লাগবে। করোনার এই মহামারিতে সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনে কর্মহীন হতদরিদ্র দিনমজুর পিতার পক্ষে তখন এতো টাকা দেওয়া সম্ভব না।

তাই সে কোন উপায় না পেয়ে বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সুজন মোল্লার কাছে তার কষ্টের কথা খুলে বললে মো. সুজন মোল্লা ওই শিশুর পিতার ফোন দিয়ে কথা বলেন জরুরী বিভাগে থাকা এক স্টাফের সাথে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি সাপ্লাই নাই বলে কল কেটে দেন।

এরপর ঘটনার বিবারণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি পোষ্ট দেয়া হয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে। সেই পোষ্ট দেখে বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান শিশুটির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠিয়ে দিয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিনকে খোঁজ-খবর নিতে বলেন। তাৎক্ষণিক বানারীপাড়া থানা পুলিশ হাসপাতালে এসে অসহায় পিতার কোলে থাকা অবুঝ শিশুটির চিকিৎসা সেবা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করান।

পরে ব্যবস্থাপত্রে লেখা ঔষধও ডিআইজির অর্থে ক্রয় করে দেয়া হয়। ততক্ষণে অসহায় পিতার অবয়বে কেমন যেন তৃপ্তির এক প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়। আর ভাবেন এখনও দুনিয়ায় ভাল মানুষ আছে। এমন ডিআইজি দেশের সব জায়গায় দরকার।

টাকার অভাবে আশা ছেড়ে যখন চোখের পানিতে বুক ভিজতে ছিলো তখনই পাশে দাঁড়ালেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান। তার এই মহতী উদ্যোগকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও হাজারো মন্তব্য করেছেন।