ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে প্রথম হওয়া সিয়াম বুয়েটেও সেরা

গবেষণা করতে চান পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে

14

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন মেফতাউল আলম সিয়াম। তার রোল নম্বর ৫০৬১৫। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বুয়েটের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে ugadmission.buet.ac.bd এই ফল প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে সিয়াম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেও প্রথম স্থান অধিকার করেন। সেই সঙ্গে তিনটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার তৃতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি।

এছাড়া চলতি বছরের মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৫৯তম এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন সিয়াম।

তথ্য মতে, এ বছর বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রিলিমিনারিতে অংশ নেন ২৪ হাজার শিক্ষার্থী। সেখান থেকে বাছাইকৃত ৬ হাজার শিক্ষার্থী চূড়ান্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে আর্কিটেকচার বিভাগসহ ১ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী সুযোগ পাবেন বুয়েটে পড়ার।

জানা যায়, সিয়ামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের দাড়িদহ গ্রামে। তার বাবা খোরশেদ আলম এবং মা মঞ্জিলা আরম। সিয়ামের বাবা দীর্ঘদিন এনজিওতে কাজ করে অবসর নিয়েছেন। আর মা গৃহিনী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় সিয়াম। তার বাকি দুই ভাই জমজ। তারা বগুড়া জেলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

সিয়াম বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুবই ভালো প্রস্তুতি ছিল বলে জানান সিয়াম। একটি প্রশ্নের উত্তর ভুল করায় ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর পাননি। সিয়াম জানান, বড় হয়ে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান তিনি।

এদিকে, সিয়ামকে নিয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান আলী বলেন, ‘সিয়াম অত্যন্ত মেধাবী। সে সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। করোনার কারণে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকলেও এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও সিয়াম বসে ছিল না। সে সবসময় স্যারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং পড়াশোনা বুঝে নিয়েছে। যার ফলে সিয়াম এখন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে প্রথম হয়েছে।’

ময়দানহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মানিক বলেন, ‘সিয়াম আমাদের গ্রামের এবং সারাদেশের গর্ব। ঢাবিতে তার এত ভালো রেজাল্ট পুরো গ্রামের জন্য গর্বের। তাকে দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হবে এবং ভালো ফলাফল করবে। এভাবেই দেশ ও জাতি উন্নত হবে।’