তারুন্যের বাংলাদেশ না উজ্জীবিত পাকিস্তান, কে এগিয়ে?

6
National vector fabric wave flags of Pakistan and Bangladesh isolated on white background. 1 to 2 proportion.

ইতিহাস বলে ২০১৫ সালে প্রথমবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করেছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের সেই দুর্বার টাইগারদের উজ্জিবীত নৈপুণ্যের সঙ্গে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও কুলিয়ে উঠতে পারেনি পাকিস্তান, হেরে যায় ৭ উইকেটে। সে মঞ্চ কি প্রস্তুত করতে পেরেছে বাংলাদেশ? নাকি সদ্য বিশ্বকাপ মাতিয়ে আসা উজ্জীবিত পাকরা এবার টাইগারদের নাচাঁবে? ছন্দহারা বাংলাদেশ কি পারবে সব ভুলে সেরাটা মেলে ধরতে? যদিও ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তাদের দারুনভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। এখন সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে পারলেই হয়। তাহলেই বঙ্গবন্ধু শতবর্ষ রঙিন হবে। নিশ্চয়ই সেটা মাথায় আছে সবার।

সময় বলছে মাহমুদউল্লাহর ক্যারিয়ারের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন বাবর আজমের পথ চলা শুরু। সময়ের পরিক্রমায় মাহমুদউল্লাহ এখন নানা কারণে সমালোচনায় বিদ্ধ! বাবর আজম বিশ্ব ক্রিকেটের বড় তারকা। দুজন দুই মেরুতে! হ্যা, সে হিসেবে ক্যাপটেন মাহমুদউল্লাহর চাপ অনেক। সে চাপ সামলিয়ে মিরপুরে আজ শুক্রবার(১৯ নভেম্বর) দুজন যখন টস করতে নামবেন। নড়বড়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ মাহমুদউল্লাহর। বাবরের বিশ্বকাপ ছন্দ ধরে রাখার। ২২ গজে নিজ দলকে জেতাতে দুজনই মরিয়া।

কিন্তু সেই ২২ গজ নিয়ে দুই দলের দুই অধিনায়ক দুই মেরুতে। স্বাগতিক অধিনায়কের দাবি, উইকেট ভালো। অতিথি অধিনায়ক সোজাসাপ্টা বলে দিলেন, রান হবে না। প্রথম টি-টোয়েন্টি উইকেট নিয়ে দুই শিবিরে ধ্রুমজাল।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডতে আতিথেয়তা দেওয়ার খবর অজানা নয় বাবর আজমের। ধীর গতির, নিচু, অসমান বাউন্সের উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে নাকানিচুবানি খাইয়েছে তা বেশ ভালো করেই জানেন। তাদের জন্যও এমন কিছু হতে পারে সেটা আঁচ করতে পেরেছেন এ ফরম্যাটে নম্বর ওয়ান ব্যাটসম্যান বাবর।

মিরপুরের ২২ গজ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘অনুশীলন করে যতটা বুঝেছি, আমিরাতের মতো রান এখানে হবে না। আগের মতো উইকেট হোক বা ভিন্ন… ঢাকায় যত ম্যাচ খেলেছি, কিছুটা ধীরগতির থাকে উইকেট। স্পিনারদের সহায়তা থাকে। তবে বিপিএলে খেলেছি সেই ৪-৫ বছর আগে (২০১৭ সালে)।’

অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহর বক্তব্য, ‘উইকেট ভালোই মনে হলো। আশা করি, এটা ভালো উইকেট হবে। বিশ্বকাপের পর আমাদের বড় একটা চ্যালেঞ্জ এই সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলার এবং সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার জন্য ভালো একটা সুযোগ।’

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেট অ্যাসেসমেন্টেও যে দুই অধিনায়কের কঠিন পরীক্ষা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যারা উইকেট পড়তে পারবে সেই অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারবে তারাই এগিয়ে থাকবে।

এমন উইকেটে কেমন ব্যাটিং করা উচিত সেই ধারণা দিয়ে দিলেন ২২ গজের নায়ক বাবর আজম, ‘এখানে হাতে উইকেট রাখতে হবে। তাহলে কাজ সহজ হবে। বিশ্বকাপেও যেমন আমরা উইকেট হাতে রেখে শেষ ৭-৮ ওভারে যতটা সম্ভব বেশি রান করতে চেয়েছি। এই পরিকল্পনাই থাকবে এখানে।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান বিশ্বকাপে নিজেদের পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল। সেই পরিকল্পনা ঢাকাতেও প্রয়োগ করবে। বিপরীত মেরুতে থাকা মাহমুদউল্লাহরা কি পারবে তাদের আটকাতে? তাই দেখার এখন শুধুই অপেক্ষা।