দিল্লির বায়ুতে শ্বাস নেওয়া দিনে ২০টি সিগারেট টানার সমান

28

মারাত্মক বায়ুদূষণের জেরে সপ্তাহখানেক ধরে দিল্লি ও এর আশপাশের শহরগুলো ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শনিবার (১৩ নভেম্বর) রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দেশটির প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা বলেছেন, অবস্থা কত খারাপ দেখেছেন… আমাদের ঘরেও মাস্ক পরে থাকতে হচ্ছে।

দু’দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে ভারতীয় প্রধান বিচারপতি বলেন, জরুরি কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন তা আমাদের বলবেন? দু’দিনের লকডাউন? একিউআই’র (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) মাত্রা কমাতে কী করতে চান?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশের পর শনিবারই জরুরি বৈঠকে বসছে দিল্লি ও কেন্দ্র। এতে অংশ নেবে হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব সরকারও।

 

এদিন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারের (কেন্দ্র বা রাজ্য) দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিষয়টি দেখুন। এমন কিছু হওয়া দরকার যাতে আমরা অন্তত আগামী দুই-তিন দিনের জন্য কিছুটা স্বস্তিবোধ করি।

দিল্লির বায়ুদূষণ পুরোনো হলেও সপ্তাহখানেক ধরে তা বিপজ্জনক সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। এ সপ্তাহেই চলতি বছরের সবচেয়ে দূষিত বায়ু রেকর্ড হয়েছে ভারতীয় রাজধানীতে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে দিল্লিবাসীকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার আদালতে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা মেনে নিয়েছেন, বর্তমানে দিল্লির বায়ুতে শ্বাস নেওয়া দিনে ২০টি সিগারেট টানার সমান ক্ষতিকর। এদিন দুপুরেও দিল্লির একিউআই ৬৫৩ পিএম২.৫ দেখা গেছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

শুনানিতে অবশ্য দিল্লির বায়ুদূষণের দোষ পাঞ্জাবের কৃষকদের ঘাড়ে চাপাতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের প্রতিনিধি আদালতে বলেন, আমরা খড় পোড়ানো বন্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু গত পাঁচ-ছয়দিন আমরা যে বায়ুদূষণ দেখছি, তা পাঞ্জাবে খড় পোড়ানোর কারণেই। এটি রাজ্য সরকারকে সামলাতে হবে…।

 

তাৎক্ষণিক এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ কৃষকদের জন্য হয়েছে এমনটা কেন বোঝাতে চাচ্ছেন? তারা সামান্য একটি অংশ মাত্র। দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে আপনারা কী করছিলেন?

এসময় বিচাপতি ডিওয়াই চন্দ্রদূত বলেন, কৃষকরা প্রণোদনা না পেলে পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের মারা সবার কাছে যেন একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত সরকার দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করলেও মানুষ তা মানেনি। সেদিকে ইঙ্গিত করে এ বিচারপতি বলেন, আপনি আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছেন, কিন্তু গত পাঁচ-ছয় দিন কী হচ্ছে? এসময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আমরা বলছি না, এটি শুধু কৃষকদের জন্যই হচ্ছে। আমরা কখনোই তা বলিনি।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়ে। দিল্লি সরকারের উদ্দেশে আদালত বলেন, দু’সপ্তাহ আগে আপনারা সব স্কুল খুলে দিলেন… এখন বাচ্চারা এই বিপজ্জনক বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে।