দুর্গাসাগরের বিচ্ছিন্ন দ্বীপটির সঙ্গে সংযোগ হচ্ছে কাঠের ব্রিজ

84

ঐতিহ্যবাহী প্রায় ২৪০ বছরের পুরনো দুর্গাসাগর দীঘিকে আরও আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেশকিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কাজ চলমান রয়েছে, আর কিছু কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

তবে এসব কাজের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে গ্রামীণ অবকাঠামোতে নির্মিত একটি কাঠের ব্রিজ। যা দীঘির মধ্যে থাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপটির সঙ্গে সংযোগ ঘটাবে তীরের। এ নিয়ে এরইমধ্যে পরিকল্পনার কাজ শেষ করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলীরা। এখন শুধু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষা।

এছাড়া এখন জেলা পরিষদের অর্থায়নে ও জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে দুর্গাসাগরের পশ্চিম পাড়ে তিনতলা বিশিষ্ট শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত আধুনিক ডাক বাংলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সেসঙ্গে শিশুদের খেলাধুলার জন্য ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মিনি শিশুপার্কও করা হচ্ছে। যেখানে দোলনাসহ শিশুদের বিভিন্ন রাইড থাকবে। এছাড়া নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বোট টার্মিনালের, যেখান থেকে নিরাপদে দর্শনার্থীরা দীঘির পানিতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। দীঘির বিস্তৃত পাড়জুড়ে বিদ্যুতায়ন ও দর্শনার্থীদের সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনও করা হচ্ছে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাসাগরকে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমেও উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রেস্ট হাউজ নির্মাণ, অবজারভেশন টাওয়ার স্থাপন, ফুল বাগান, সেমিপাকা পিকনিক সেড ও শপিং বিল্ডিং নির্মাণ, ২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপন এবং সংযোগ লাইটিং সাবস্টেশন স্থাপন, সোলার সিস্টেম স্থাপন, ওয়াইফাই সিস্টেম স্থাপন, দুর্গাসাগরের অভ্যন্তরে ম্যুরাল/স্কাল্পচার (ভাস্কর্য) স্থাপন, বিদ্যমান কার পাকিং ও সংস্কার এবং নতুন পার্কিং এরিয়া নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর পুনঃনির্মাণ, প্রবেশ গেট পুনঃনির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও পানি সরবরাহ, ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর ল্যান্ডিং সংস্কার, ডাক হাউজ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজ এবং প্রবেশমুখে গার্ডরুম নির্মাণ করা। এছাড়া দীঘির মধ্যে কৃত্রিম ফোয়ারা স্থাপন, থ্রিডি মুভি থিয়েটার স্থাপন, ক্যাবল কার স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সার্বিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দুর্গাসাগরকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় একটি পর্যটকবান্ধব বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ দীঘিটির সার্বিক উন্নয়নে আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্গাসাগরে বিভিন্ন দেশীয় দুর্লভ প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস ও কবতুর পালন করা হচ্ছে, এর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যত পরিকল্পনার মধ্যে দীঘিতে গোলঘরসহ গ্রামীণ অবকাঠামোতে তৈরি ব্রিজ স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মূলত এ ব্রিজের মাধ্যমে দীঘির মধ্যে থাকা দ্বীপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, এছাড়া এখানে মিনি চিড়িয়াখানা স্থাপন, পাখির সেড স্থাপন করে পাখি পালন, আকর্ষণীয় রাইডসহ মিনি শিশুপার্ক স্থাপন করার পরিকল্পনা ও কাজ এগিয়ে চলছে।

উল্লেখ্য বরিশাল জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির অবস্থান। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে এলাকাবাসীর পানি সংকট নিরসনের জন্য মাধবপাশায় ঐতিহাসিক এ দীঘিটি খনন করেন। তার স্ত্রী রানি শ্রীমতী দুর্গারানীর নামানুসারে এ দীঘিটির নামকরণ হয় দুর্গাসাগর।