দেশের চার হাসপাতালে করোনায় আরও ৬৪ মৃত্যু

87

দেশের চার হাসপাতালের গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ইউনিটে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ২২, রাজশাহীতে ১৮, ময়মনসিংহে ১৪ ও চট্রগ্রমে ১০ জন রয়েছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বোচ্চ ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জনের করোনা পজেটিভ ও ১০ জনের করোনা উপসর্গ ছিল।

ডা. আবদুল মোমেন জানান, হাসপাতালে বর্তমানে করোনা নিয়ে ১৮৭ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ৯৩ মোট ২৮০ জন ভর্তি রয়েছেন। পিসিআর ল্যাব ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২২০ জনের দেহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৭.৭৭ শতাংশ।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক‌্যাল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, জেলার সর্বত্র করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় ডেল্টা ভাইরাসজনিত কারণে এটা হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলে এখন করোনার প্রকোপ বেশি। গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা খুবই কম। করোনা উপসর্গ নিয়ে দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসা ও দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগা ৫০ বছরের উপরের মানুষের মৃত্যু বেশি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিক‌্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান। এর আগে গত ২৮ জুন সর্বোচ্চ ২৫ জন মারা যান।

শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন করে মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর ১৫ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে।

মৃত ১৮ জনের মধ্যে রাজশাহীর ১০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন, নাটোরের দুইজন, নওগাঁর দুইজন, কুষ্টিয়ার একজন এবং সিরাজগঞ্জের একজন করে রোগী ছিলেন। হাসপাতালটিতে এ মাসের নয়দিনে ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে জুন মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৫৪ জন।

 

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনায় ৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এছাড়াও জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১৮৭ জনের।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

করোনায় মৃতরা হলেন— ময়মনসিংহ সদরের মফিজুর (৬৫), শহীদুল ইসলাম (৪৫), গফরগাঁওয়ের সিরাজুল ইসলাম (৮০), ঈশ্বরগঞ্জের মোজাম্মেল হক (৬০), নেত্রকোনা সদরের সাহেরা খাতুন (৭০), পুর্বধলা আব্দুল মতিন (৬৮)।

উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন— ময়মনসিংহ সদরের আব্দুল জলিল (৬০), মোখলেছুর রহমান (৬৫), মীর জান (৮০), ভালুকার আলী নেওয়াজ (৫৫), গফরগাঁওয়ের কুলসুম বেগম (৫৫), শেরপুর সদরের আব্দুস সামাদ (৬৫), জসতিয়া রানী (৪০) ও টাঙ্গাইলের আব্দুল জলিল (৫৬)।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও হাসপাতালে অ্যান্টিজেন টেস্টে মোট ৬৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ১৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ। গতকালের তুলনায় ৫ শতাংশ কম।

চট্টগ্রাম : করোনায় চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৫৪ জনে। একই সময়ের মধ্যে করোনা শনাক্ত হন ৭৮৩ জন। এটিই চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এর মধ্যদিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৩ হাজার ৬৯৬ জনে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে দুই হাজার ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৮৩ জনের দেহে করোনার জীবাণু শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে নগরের ৫১০ ও উপজেলার ২৭৩ জন।

জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৭৬ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে ১৭২ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ১০৭ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি ল্যাবে ৭৫ জন, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৬৫ জন ও শেভরণ হাসপাতাল ল্যাবে ৪২ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

একই সময়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২২ জন, জেনারেল হাসপাতাল আরটিআরএল ল্যাবে ১৭ জন, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১৮ জন এবং অ্যান্টিজেন টেস্টে ১৮৯ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।