নারায়ণগঞ্জ বন্দরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি

13

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একের পর এক লাশ উদ্ধার হচ্ছে। একই সাথে আশংকাজনক হাড়ে বাড়ছে নারী নির্যাতন, মারামারি, গণধর্ষণ এবং চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা। সেই সাথে মাদকে সয়লাব পুরো থানা এলাকা। আর কিশোর গ্যাং ও দাগী সন্ত্রাসীদের উৎপাত তো রয়েছেই। এমনকি গত সোমবার একদিনেই উদ্ধার করা হয়েছে ২ টি মরদেহ। এছাড়া গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। চরমভাবে অবনতি ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আর এসবের জন্য থানা পুলিশের গাফলতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা বলে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

তবে পুলিশ বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর বন্দর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। এরই মধ্যে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ, হাত-পা বাধা, নিখোঁজ হওয়াদের মরদেহ সহ ৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় মামলা করেছে নিহতদের স্বজনরা। জড়িতদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া মহানগর জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতাসহ বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে ধারালো ছুরিসহ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারপরও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না অপরাধ।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, নিখোঁজ আর অপহরণের মতো ভয়ংকর সব অপরাধ। সেই সাথে অবাধে চলছে মাদকের অপব্যবহার। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে থানা পুলিশকে।

আবু বকর

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক ও তার অধীনস্থ অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে থানা পুলিশের চেইন অব কমান্ড অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ তছলিম উদ্দিনের অসদাচরণ এবং ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ট অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সেরা। এছাড়া এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু, মাদকের শেল্টার দাতা, গ্যাস চোর সিন্ডিকেট ও বালু সন্ত্রাসীদের থানায় আনাগোনা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওসি’র গ্রামের আত্মীয় পরিচয়ে মদনগঞ্জের চিহ্নিত ভূমিদস্যু, পুলিশের ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয় দেওয়া সেই তালিকাভুক্ত তদ্ববীরকারী আজাহারকে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি খোদ ওসির বাম পাশের চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। এমনকি তার মাধ্যমে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে দেন-দরবার ও অর্থনৈতিক লেনদেন হয় বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।

অপর একটি সুত্রে জানা গেছে, ইন্সপেক্টর তছলিম উদ্দিন যোগদানের পর থেকে থানার সম্মেলন কক্ষে মামলা ও অভিযোগের বাদী-বিবাদীদের নিয়ে গভীর রাত অবধি চলে “মিমাংসা বানিজ্য”। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাবেক ওসি দীপক চন্দ্র সাহা অনেক পেশাদার ও জনবান্ধব ছিলেন। কিন্তু অফিসারেরা এখন শুধু দায়সারা চাকরি করেন। একরামপুর থেকে আগত বোরহান উদ্দিন জামান, থানার মেইন গেটে বড় করে লেখা আছে, সেবা নিতে টকা লাগে না। কিন্তু টাকা না দিলে থানায় কোনো কাজ হয়না। এমনকি, একটা জিডি বা মামলা লেখার জন্য গেটের বাইরে কম্পিউটার দোকান থেকে লিখে আনতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। আর বাকি সবকিছু তো পরে!

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, থানার অধীনে মহাসড়কের পাশে কামতাল তদন্ত কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। কিন্তু যথাযথ তদারকি না থাকায় মহাসড়ক ও শাখা রাস্তায় অহরহ ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। একই সাথে বাড়ছে খুন, অপহরণ সহ ভয়ংকর অপরাধ। আর এসবের জন্য থানা পুলিশের অদূরদর্শীতা এবং অপেশাদারিত্বকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল।

এ ব্যপারে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্র্জ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এটা আইনশৃঙ্খলা অবনতি বলা যায় না, তবে যা ঘটছে তার ব্যবস্থা গ্রহন করার পদক্ষেপ নেবো। ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ তছলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আমার কাছে কোন কমপ্লেন আসেনি, তবে আমি খতিয়ে দেখবো।