পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরির ধাক্কা, ষড়যন্ত্র দেখছেন প্রতিমন্ত্রী

15

পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরির ধাক্কার ঘটনায় ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ দেখছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে নিজের এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ঘটনায় মধ্যে আমি গভীর ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছি। এটার পেছনে কোনো…আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আমি বলেছি, সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এটা গভীরভাবে তদন্ত করতে হবে এবং এর পেছনের রহস্য অবশ্যই উদঘাটন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এত সকাল বেলা এই ঘটনা আমরা দেখলাম, জাহাজ গেল, আবার ওখানে গিয়ে কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ভিডিওতে দেখছি (মাস্তুল) বাড়ি খেয়ে পড়ে গেল। বলা হচ্ছে ওটা লোহার, লোহার হলে তো পড়ে যাবে না, বেঁকে যাবে এবং ঘষা খাবে। কিন্তু ঘষার কোনো চিহ্ন নেই। এই সংবাদগুলো কেন আসছে, এটারও তদন্ত হওয়া দরকার। আমর কথা ভুল হলে আমি খুশি হব, যে এটার মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। আমরা আমাদের অপরাধী ভাবছি। এখন তো মনে হচ্ছে এটা পদ্মা সেতুতে আঘাত নয়, আঘাত আমাদেরকেই করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, তিনি তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চাই এটার সঠিক তদন্ত হোক। অপরাধী যেই হোক, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সেগুলো তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক।’

এ ধরনের ধাক্কায় সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না 

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা সেতু যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, এই ধরনের ধাক্কা দিয়ে  সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে আমাদের মনের। আজকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিশ্বাস ঘাতকতার জায়গায় চলে গেছে। এটা কেন বলছে? এটা তাদের অনুভূতির জায়গায় চলে গেছে। এটাই হচ্ছে আমাদের বড় কষ্ট।

পদ্মা সেতুর উচ্চতা অনুযায়ী স্প্যানে কোনো নৌযানের ধাক্কা লাগার কথা নয়, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমাদেরও প্রশ্ন। পদ্মা সেতুর যে নকশা করা হয়েছে, সেই নকশা অনুযায়ী যে উচ্চতা থাকার কথা, সেখানে কোনোভাবেই উপরের স্প্যানে আঘাত লাগার কথা নয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, এটার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, এই ঘটনার পেছনে অন্য কিছু উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।’

অনেক ফেরির ফিটনেস নেই, এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমরা ২৩টি ফেরি যুক্ত করেছি। আমাদের আরও ফেরি প্রয়োজন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের চাহিদার জন্য আমাদের ঝুঁকি নিয়ে এগুলো চালাতে হয়। কিন্তু ফেরিগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর গতকাল ডকইয়ার্ড থেকে পানিতে নেমেছিল।’

ঘাট স্থানান্তরের বিষয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর মাঝিরকান্দি ঘাট বিকল্প হতে পারে। এসব ঘটনার পর আমাদের মাস্টারদের মধ্যেও ভীতি তৈরি হয়েছে। আবার যদি কোনো ঘটনা ঘটে যায়, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সেজন্য আমরা মাঝিরকান্দি ঘাট প্রস্তুত রেখেছি। সেখানে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। নাব্য ও রাস্তার বিষয়টি ক্লিয়ার হলে হয়তো আমরা হালকা যানবাহন আপাতত পারাপার করতে পারব। কারণ এখানে ইয়ার্ড করার কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ একটা জায়গা দেবে ইয়ার্ড করার জন্য।’