টি-২০তে প্রথমবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস

29

আগের ১০ দেখায় একবারও জয় পারেনি বাংলাদেশ। তবে এবার অনায়াসে পেরেছে। প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে হারাল মাহমুদউল্লাহ- সাকিব-মুশফিকরা। এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খেলতে নেমে যদিও মূল কাজটা করে দিয়েছেন বোলাররাই। নিউজিল্যান্ডকে তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানে অলআউট করে বাংলাদেশের জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দেন তারা। লক্ষ্য ছিল মাত্র ৬১ রানের। সে লক্ষ্য পাড়ি দিয়েছে হেসেখেলে। ৫ ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। এটিই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড বধ। ইতিহাস রচনার দিনে সাকিবের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ২৫ রান। পরে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৩০ বল হাতে রেখে জেতে বাংলাদেশ। ১৬ রানে মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো ব্যর্থ বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। লিটন দাস ফিরেও সুবিধা করেত পারেননি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ১ রানের মাথায় নিজেও ১ রান করে ফেরেন নাঈম শেখ। একই পথে হাঁটেন লিটনও। তার ব্যাট থেকেও আসে ১ রান। ইনিংসের শুরুতেই যখন ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে স্বাগতিক শিবির, তখন দলের ত্রাতা হয়ে আসেন সাকিব। মন্থর উইকেটেও বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলেন।

তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে সাকিবের ৩৬ রানের জুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তবে দলীয় ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৭ রান। তার আগেই ফিরে গেছেন সাকিব, অভিষিক্ত রাচিন রাবীন্দ্রর বলে টম লাথামের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এতে শেষ হয় তার ৩৩ বলে ২৫ রানের লড়াকু ইনিংস।

সাকিব আউট হলেও মাহমুদল্লাহকে নিয়ে দলের জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটি থেকে আসে ২৫ রান। এতে ৩০ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দল। মুশফিক ২৬ বলে ১৬ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টস ভাগ্য কথা বলে নিউজিল্যান্ডের হয়ে। আগে ব্যাট করার সিদ্ধন্ত নেয় তারা। শেখ মেহেদী হাসান অফ স্পিনে শুরুতেই সাফল্যও এনে দেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান অভিষিক্ত রাচিন রবীন্দ্রকে। গুড লেংথের বলে কোন রান করেই দিয়েছেন ফিরতি ক্যাচ। মেহেদীর দেখানো পথে হেঁটেছেন বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ও নাসুম। রবীন্দ্রকে অনুসরণ করেছে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। তাতেই স্পিন বিষে পুড়ে ছারখার কিউইরা।

স্পিনারদের করা প্রথম ৫ ওভারে ১০ রান তুলতেই তারা হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। দলীয় ৭ রানে উইল ইয়াং ৫ রানের ব্যাট করার সময় সাকিবের বেশ বাইরের নিচু হওয়া বল টেনে আনেন স্টাম্পে। নাসুমের করা ইনিংসে চতুর্থ ওভারে ১ রানের ব্যবধানে ফেরেন কলিন ডি গ্রান্ডহোম (১) ও টম ব্লান্ডেল (২)। ৬ষ্ঠ ওভারে আক্রমণে আসা মুস্তাফিজুর রহমান ৮ রান খরচ করলে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউদের সংগ্রহ ১৮ রান।

৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক টম লাথাম ও হেনরি নিকোলস যোগ করেন ৩৪ রান। তবে সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে লাথাম ফাইন লেগে ক্যাচ দেন নাসুমকে। ২৫ বলে ১৮ রান করে আউট হন তিনি। সাকিবের করা পরের ওভারেই অভিষিক্ত কোল ম্যাককোনক ফেরেন শূন্য হাতে। ফলে নিউজিল্যান্ডের দুই অভিষিক্তই রানের খাতা খুলতে পারেননি।

ক্রিজে থিতু হয়ে ফিরেছেন হেনরি নিকোলসও (১৮), ৪৯ রানে ৭ উইকেট নেই সফরকারীদের। এরপর নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে সফরকারীদের শেষ ৩ উইকেট নিজের পকেটে ঢুকান মুস্তাফিজ। তাতে ৬০ রানেই থামতে হয় টম লাথামদের। ১৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুস্তাফিজের। ৪ ওভারে ১০ রান খরচায় সাকিবের শিকার ২ টি, সাইফউদ্দিন ও নাসুমও তুলে নেন সমান সংখ্যক উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

নিউজিল্যান্ড: ১৬.৫ ওভারে ৬০/১০ (ব্লান্ডেল ২, রবীন্দ্র ০, ইয়াং ৫, ডি গ্র্যান্ডহোম ১, ল্যাথাম ১৮, নিকোলস ১৮, ম্যাকনকি ০, ব্রেসওয়েল ৫, এজাজ ৩, টিকনার ৩*, ডাফি ৩; মেহেদি ১/১৫, নাসুম ২/৫, সাকিব ২/১০, মুস্তাফিজ ৩/১৩, সাইফ ২/৭)।

বাংলাদেশ : ১৫ ওভারে ৬২/৩ (নাঈম ১, লিটন ১, সাকিব ২৫, মুশফিক ১৬*, মাহমুদউল্লাহ ১৪*; এজাজ ৪-০-৭-১, ম্যাকনকি ১/১৯, রবীন্দ্র ১/২১)।

ফল: ৭ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ
ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান