ফের রোনালদোর গোলে ইউনাইটেডের নাটকীয় জয়

52

ওয়েস্টহ্যামের মাঠে গিয়ে প্রথমে গোল হজম করে ফেলতে হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। কিন্তু ম্যানইউর চিন্তা কী এখন! দলটিতে তো রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

সুতরাং, ম্যানইউ উদ্ধার হলো তার গোলে। শেষ পর্যন্ত হেসে লিংগার্ডের গোলে ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়লো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

তবে রোনালদো, লিংগার্ডের গোলের চেয়ে ম্যানইউর জয়ে গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়ার অবদান কম ছিল না। একেবারে ইনজুরি টাইমে দুর্দান্ত এক ক্ষিপ্রতায় পেনাল্টি ঠেকিয়ে ম্যানইউকে বাঁচিয়ে দেন তিনি। তার এই পেনাল্টি ঠেকানোতে ম্যানইউকে জয় বঞ্চিত হতে হয়নি।

ওয়েস্টহ্যামের মাঠে খেলতে গিয়েছিল ম্যানইউ। ম্যাচের প্রথম আধাঘণ্টা কোনো দলই গোল করতে সক্ষম হয়নি। ৩০ মিনিটে ম্যানইউকে স্তব্ধ করে দেন ওয়েস্টহ্যামের সাইদ বেনরাহমা। জেরড বোয়েনের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেমে ডান পায়ের শট নেন বেনরাহমা।

৫ মিনিট পরই ম্যানইউকে সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডি বক্সের ভেতর বাম পাশ থেকে খুব ক্লোজ রেঞ্জে ডান পায়ের শটে গোল করেন সিআর সেভেন। যদিও গোলটি নিশ্চিত হতে ভিএআরের সহায়তা নিতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রেফারি গোলের বাঁশিই বাজান।

১-১ গোলের সমতাতেই খেলা গড়িয়ে চলছিল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে (৮৯তম মিনিটে) গোল করেন হেসে লিংগার্ড। নেমজান মাটিচের পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাম পাশ থেকে ডান পায়ের শট নেন তিনি। তাতেই জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় ইউনাইটেডের।

তবে তখনও বাকি ছিলো ম্যাচের নাটকীয়তা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন রোনালদো। কিন্তু তার পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি। খালি চোখে মনে হচ্ছিলো, পেনাল্টি পাওয়ার মতোই ছিলো ফাউলটি।

ইউনাইটেড পেনাল্টি না পেলেও, মিনিট খানেক পর বিপরীত ডি-বক্সে পেনাল্টি পেয়ে যায় স্বাগতিক ওয়েস্ট হ্যাম। ইয়ারমোলেঙ্কোর ক্রস ঠেকাতে গিয়ে বল লেগে যায় ডি-বক্সের মধ্যে থাকা লুক শ’র হাতে। প্রথমে সেটি খেয়াল করেননি রেফারি। তবে ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শ রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান তিনি।

একদম অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়ে খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন ওয়েস্ট হ্যাম কোচ। স্ট্রাইকার জ্যারড বোয়েনকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান দলের পেনাল্টি স্পেশালিস্ট মার্ক নোবেলকে। মাঠে নেমে পেনাল্টিটিই ছিলো নোবেলের বলে প্রথম টাচ। আর তাতেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি।

নোবেলের ডান দিকে নেয়া শট নিজের বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডি গিয়া। যার ফলে রোনালদো-লিনগার্ডের গোলের পরেও ইউনাইটেডের জয়ের নায়ক হয়ে যান এ স্প্যানিশ গোলরক্ষক। কেননা তিনি পেনাল্টিটি না ঠেকালে যে ড্র নিয়ে ফিরতে হতো রেড ডেভিলদের!

এ জয়ের পরও অবশ্য শীর্ষস্থান ফিরে পায়নি ইউনাইটেড। লিগে এখনও পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে তারা। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট থাকলেও, গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে শীর্ষস্থানে রয়েছে লিভারপুল। সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরেই রয়েছে ওয়েস্ট হ্যাম।