বাঘের মৃত্যু গোপন রেখেছিল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রার মৃত্যুর পাশাপাশি একটি বাঘেরও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ করেনি এত দিন।

রোববার (৩০ জানুয়ারি) সাফারি পার্ক প্রকল্পের পরিচালক মো. জাহিদুল কবীর নিশ্চিত করে জানান, বেষ্টনীতে একটি বাঘ বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় ছিল। গত ১২ জানুয়ারি বাঘটি মারা যায়। পরে তার নমুনা ঢাকার একটি ল্যাবে পাঠানো হয়।

এর আগে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে অসুস্থ জেব্রাটি মারা যায়। একই দিন সকালে অসুস্থ অবস্থায় অপর একটি জেব্রার মৃত্যু হয়। তবে মারা যাওয়া জেব্রা দুটি মাদী না পুরুষ তা নির্ণয় করা যায়নি। এ নিয়ে পার্কে ২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১১টি জেব্রা মারা গেছে।

এ ছাড়া রোববার সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন জেব্রার মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি দুপুরে পার্কে প্রবেশ করে তদন্তকাজ শুরু করেন।

তারা জানান, অতিরিক্ত কাঁচা ঘাস ছাড়াও স্ট্রেপ্টোকক্কাস, ই-কোলাই, স্টোডিয়াম, সালমোনিলা ও পাস্টুরেলা নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ৫টি এবং নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আরও চারটি জেব্রা মারা গেছে।

মো. জাহিদুল কবীর জানান, পার্কের জন্য নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. শহীদুল ইসলাম ও অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম বাঘের মৃত্যুর লক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ও প্রাথমিকভাবে বাঘের মৃত্যুর কারণ হিসেবে এনথ্রাক্স নামের জীবাণুকে চিহ্নিত করেছেন।

বাঘ মৃত্যুর কারণ কেন গোপন রাখা হলো, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বাঘ মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ এনথ্রাক্স বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রকৃত কারণ জানা যায়নি বলে তা কাউকে জানানো হয়নি। বাঘের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান চলছে। এর আগে ওই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই বাঘটির চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু ১২ জানুয়ারি হঠাৎ বাঘটি মারা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্কের এক কর্মকর্তা বলেন, বাঘটির পায়ে ক্ষত হয়ে গিয়েছিল। পরে বাঘটির চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। দিন দিন বাঘটি দুর্বল ও খাবার গ্রহণ না করতে করতে মারা গেছে। ১২ জানুয়ারি সকালে বাঘ বেষ্টনীতে বাঘটির মরদেহ দেখা যায়।