বানারীপাড়ায় আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের অবৈধ স্থাপনা অপসরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন

38

মো. সুজন মোল্লা
অনুসন্ধানে জানাগেছে, যে সম্পত্তি পাওয়ার কথা ছিলো ভূমিহীনদের। সেই সম্পত্তি কোন প্রকার ইজারা বা বন্দবস্ত না নিয়েই বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা মার্কেট গড়ে তুলেছিলেন।

জানা গেছে , ওই মার্কেটের স্থান থেকেই বানারীপাড়া পৌর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো একটি ব্রীজ নির্মাণের। তবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই নেতা সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার বন্দবস্ত না নিয়েই গড়ে তোলেন মার্কেট। ফলে এলাকাবাসীর স্বপ্ন ধূসর হয়ে যায়। তবে এলাকার সন্তান মো. শাহে আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পরে তাদের সেই দাবীটি জোরালোভাবে পুনরায় উপস্থাপন করেণ সাধারণ মানুষ।

দাবীটি পূরণে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহে আলম এমপি এলাকাবাসী ও বন্দর বাজারের ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেন। ব্রীজ নির্মাণের সকল কার্যক্রম শেষ হবার পরে বাঁধার সৃষ্টি হয় ওই অবৈধ মার্কেটটি।

স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি দলীয় ফোরামেও এডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাকে তার মার্কেটটি অপসারণের আহব্বান করেণ বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। তিনি সেই আহব্বান উপেক্ষা করে ৩ নভেম্বর সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের কিছু মানুষকে ব্রীজের স্থলে দাঁড় করিয়ে ব্রীজ দরকার নেই শ্লোগানে একটি হঠাৎ মানববন্ধন করাণ।

তবে সবকিছুর ইতি টানা হয় শনিবার ৬ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিদা রিক্তা উপস্থিত থেকে অবৈধ মার্কেটটি ভেঙ্গে দেন। এসময় বানারীপাড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে,২০১২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বানারীপাড়া পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর বাজারের ফেরীঘাটে চান্দিনা ভিটার জন্য বিভিন্ন দাগে ৫ নামে আড়াই শতক খাস সম্পত্তি একসনা লিজ নেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিভিন্ন দাগে (৫ দাগ) না গিয়ে লিজের কিছু অংশসহ সন্ধ্যা নদীর তীরের প্রায় ৭/৮ শতক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে ২০১৫ সালে একটি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকা মার্কেট নির্মাণ করেণ। সিকদার রড-সিমেন্ট,মদিনা সিরামিকস ও দুটি যা অগ্রিম রেষ্টুরেন্টের জন্য ৪ জন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেন।

এরমধ্যে মো. ইউসুফের মদিনা সিরামিকস,মনির হোসেন ও রফিকুল ইসলামের দুটি রেষ্টুরেন্ট সম্পূর্ণ এবং সিকদার রড-সিমেন্টের একাংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নাজিরপুর ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরবাড়ি আবাসন পর্যন্ত শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই রাস্তার মাঝের কয়েকটি খালের মধ্যেই ব্রীজ নির্মাণের সকল প্রকার প্রক্রিয়া শেষ করেণ স্থানীয় সাংসদ মো. শাহে আলম।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন, সন্ধ্যা নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করায় উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা বলেন,উপজেলা ভূমি অফিস তার লিজ নেওয়া সম্পত্তি ওই স্থানে দেখিয়ে দেওয়ায় তিনি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেছিলেন।