বানারীপাড়ায় খাস জমিতে আওয়ামী লীগ নেতার পাকা ঘর বন্ধ করে দিলো জনতা

10

মো. সুজন মোল্লা
বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র বড়খেয়াঘাট। যে স্থানটি ফেরীঘাট নামে বেশি পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে ওই স্থানের কোলঘেষে থাকা সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী চরের সরকারি খাস সম্পত্তির কোন রকম ইজারা না নিয়ে সেমিপাকা ভবন নির্মাণ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা। তার সেই ঘরগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

বুধবার (৩ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় সাধারণ জনতা ও ব্যবসায়ীরা এক হয়ে দুটি অবৈধ ঘর বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে তারা বানারীপাড়া প্রেসক্লাবকে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার মালিকাধীন দুটি সেমিপাকা ঘর যার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই সম্পত্তি দখল করে ঘর তুলে বেশ পরিমান অগ্রীম অর্থ নিয়ে ভাড়ায় দিয়েছেন।

তারা আরও জানান, বাজারের এবং দুরের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল অনায়াসে লোড-আনলোড করতে পারেন এবং একদিকে খেঁজুরবাড়ি হয়ে বিভিন্ন স্থানে ও নাজিরপুর হয়ে অনত্র বিকিকিনিকৃত পণ্য যানজটহীনভাবে আনানেয়া যায় এমন একটি বাইপাস সড়ক তাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো।

সড়ক হলেও ব্রীজের জন্য ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের সেই যৌক্তিক দাবী আটকে থাকে বছরের পর বছর। তবে তাদের সেই দাবী পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ড জনগনের দোঁড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহে আলম।

তিঁনি ব্রীজ নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া শেষ করেণ। তবে উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ওই আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দুটি স্থাপনা। পরে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণ তাদের সুবিধার জন্য স্থাপনার মালিকের কাছে বার বার অনুরোধ করার পরেও তিনি তার সেমিপাকা ঘর দুটি অপসারণ করেণনি। বরং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এই বলে অভিযোগ করেণ যে, প্রস্তাবিত স্থান থেকে ব্রীজের কোন দরকার নেই। যা কেবলই নিজ স্বার্থ হাসিলের দাবী রাখে বলেও ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ মনে করেণ।

তবে ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগীরা বলছেন এই স্থান থেকে ব্রীজ হলে বন্দর বাজারের ব্যবসা বর্তমানের চেয়ে অনেকাংশে প্রসারিত হবে। এই সড়ক দিয়ে ট্রাক, সি-ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন পণ্য বোঝাই করে সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে তাদের ক্রেনিংকষ্টও কমে যাবে অনেকটা। যার ফল সাধারণ ক্রেতারাও ভোগ করতে পারবে।

উপরোক্ত অভিযোগ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আরও বলেন, তবে কেন এই চক্রটি বানারীপাড়ার প্রায় উন্নয়ন কাজে বার বার বাঁধার সৃষ্টি করছে তা তাদের কাছে পরিস্কার নয়। তারা সরকারের উন্নয়ন কাজে অন্তরায় সৃষ্টিকারী চক্রের বিচার চেয়ে যতদ্রুত সম্ভব অবৈধ স্থাপনা অপসরণ করে প্রস্তাবিত স্থানে ব্রীজ নির্মানের জোর দাবী জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে।