বানারীপাড়ায় শিক্ষককে মারধর করলেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য

মো. সুজন মোল্লা
বরিশালের বানানীপাড়ায় এক শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যের মুঠোফোন কল রিসিভ না করায়। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রতন কুমার সাহা ও তার ছেলে ওই বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পাশ করেছে সেও শিক্ষককে মেরে বুজিয়ে দিবে এমন ঘোষণা দেয়।

ঘটনানাটি বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রতন কুমার সাহার মধ্যে সংঘঠিত হয়েছে বলে জানা যায়।

সরজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যকে পাওযা যায়নি। তবে লাঞ্চিতের শিকার হওয়া শিক্ষক মো.জাকির হোসেনের সাথে কথা হয়।

তিনি জানান, ঘটনার দিন (২৮ নভেম্বর) সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের মালেক স্যার ক্লাস ষষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি-সহ অন্যান্য বকেয়া উত্তোলন করার সময়,ম্যানেজিং কমিটির ওই সদস্যের মুঠোফোন কল রিসিভ করতে পারেনি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় বাইশারী বাজারে বসে মালেক স্যারকে মারার ঘোষণা দেয়াসহ অখত্য ভাষায় গালাগাল করতে ছিলো।

এ সময় ওই বাজারের ব্যবসায়ী শিক্ষক জাকির হোসেন প্রতিবাদ করলে (বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক) তাকেও দেখে নেয়ার হুমকি দেয় ওই সদস্য। তখন তিন বলেন আপনি একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হয়ে কোন শিক্ষককে এভাবে গালাগাল করতে পারেননা। তখন তিনি (সদস্য) শিক্ষক জাকির হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে তেরে আসে এবং তাকে কিল-কুষি মারে। এ সময় বাজারের অন্য দোকানীরা এবং আগন্তুকরা একত্রিত হয়ে শিক্ষককে রক্ষা করেন। ওই সময়ে বিদ্যালয়ের স্থানীয় কতেক শিক্ষার্থীরাও ঘটনজস্থলে এসেছিলেন বলে জানান, শিক্ষক জাকির হোসেন।

পরেরদিন(২৯নভেম্বর)সকালে শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দোষী রতন কুমার সাহার বিচার দাবী করে হাতে প্লাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। এ সময় প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা বিক্ষোভরতদের বিচারের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হন।

এ বিষয়ে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা শিকার করে জানান, সম্পূর্ণ বিষয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাকে অবহিত করা হয়েছে। তার সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।