বিশ্বকাপ ট্রফি কার : অস্ট্রেলিয়া না নিউজিল্যান্ডের ?

34

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান আজ হতে চলেছে। এতদিন প্রশ্ন ছিল বিশ্বকাপ ট্রফি তুমি কার ? অস্ট্রেলিয়া না নিউজিল্যান্ডের ? সেই প্রশ্নের আজ উত্তর মিলছে। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৪৪ ম্যাচ শেষ, প্রস্তুত ফাইনালের মঞ্চ। এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ট্রফির জন্য মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হতে যাচ্ছে এবারের ফাইনাল। যে মাঠ শুরু থেকে আলোচনায় টসের কারণে। বলা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের প্রথম বল ছোড়ার আধঘণ্টা আগেই ফল নির্ধারণ হয়ে যাবে! কিভাবে? পরিসংখ্যান বলছে, পরে ব্যাট করা দলের জয়ের পাল্লা ভারি, বিশেষ করে রাতের খেলায় শিশির বড় ভূমিকা রাখে বলে। এই টুর্নামেন্টে দুবাইয়ে আয়োজিত ১২ ম্যাচের ১১টি জিতেছে রান তাড়া করা দল, রাতের ৯ খেলাই জিতেছে পরে ব্যাটিং করা দল। এমনকি দুবাইয়ে শেষ ১৭টি রাতের টি-টোয়েন্টিতে ১৬ ম্যাচই জিতেছে লক্ষ্যে নামা দল, শুধু আইপিএল ফাইনালের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

লড়াইটা হবে আসলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বনাম নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের। এই ইভেন্টে অজিরা ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ শক্তিশালী করেছে। তার দৃষ্টান্ত রেখেছে অ্যাস্টন অ্যাগারের বদলে মিচেল মার্শকে অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে ঢুকিয়ে। তাদের একমাত্র হার এই অ্যাপ্রোচের বাইরে যাওয়ার কারণে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত বোলার খেলিয়েছিল তারা।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বোলিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে খেলে যাচ্ছে। পাঁচ স্পেশালিস্ট বোলার, তাদের মধ্যে মিচেল স্যান্টনার অলরাউন্ডার। কিউইদের একমাত্র হার এই অ্যাপ্রোচের বাইরে যাওয়ার কারণে। পাকিস্তানের বিপক্ষে একজন ব্যাটসম্যান বেশি নিয়ে খেলেছিল তারা, অ্যাডাম মিলনের জায়গায় টিম সেইফার্টকে নিয়ে।

পাওয়ার প্লে হতে পারে দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সুপার টুয়েলভের ৩২ ম্যাচে মাত্র দুইবার পাওয়ার প্লেতে এগিয়ে থাকা দল হারের মুখ পেয়েছে। দুবাইয়ে সাধারণ রাতের ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসের তুলনায় প্রথম ইনিংসে পেসাররা বেশি সুবিধা পেয়ে আসছে। প্রথম ইনিংসে ৩৮ ওভার করে ১৭ উইকেট পেসারদের ঝুলিতে, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ ওভার বল করে পেসাররা পেয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট। গড়, স্ট্রাইক রেট ও ইকোনমি রেটেও বিশাল পার্থক্য।

পাওয়ার প্লেতে উইকেট নেওয়ার হিসাবে অস্ট্রেলিয়া ১১ উইকেট পেয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা দল। আর ইকোনমিক্যাল রেটে নিউ জিল্যান্ড (৫.৮৯) দ্বিতীয় সেরা। আর পাওয়ার প্লেতে ছয় ইনিংসের চারটিতে অস্ট্রেলিয়া পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্টের সঙ্গে হেড টু হেডে এগিয়ে থাকা অ্যারন ফিঞ্চ হতে পারেন বিপদজনক। সাউদি বনাম ডেভিড ওয়ার্নারের লড়াইও জমবে বেশ।

দুবাইতে মাঝের ওভারগুলোতে অ্যাডাম জাম্পা, ইশ সোধি ও স্যান্টনারের স্পিন ভোগাতে পারে প্রতিপক্ষকে। এশিয়ার বাইরের দলকে সাধারণত স্পিনের বিপক্ষে সংগ্রাম করতে দেখা গেছে। সুপার টুয়েলভে দুবাইতে মাঝের ওভার মানে ৭-১৫ ওভারের মধ্যে উইকেট পড়েছে অন্য ভেন্যুগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এই সময়ে ১১৮.৩ ওভারে ৪৩ উইকেট পেয়েছেন স্পিনাররা। যেখানে শারজা ও আবু ধাবিতে ৯৮.২ ও ১০১.৩ ওভারে উইকেট গেছে যথাক্রমে ৩০ ও ২৩টি।

শিশিরও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছিল দুটি সেমিফাইনালের দ্বিতীয় ইনিংসের ডেথ ওভারগুলোতে। ‍দুটি ম্যাচেই ১৫তম ওভার শেষে দুই দলের প্রয়োজন ছিল ৬০ ও ৬২ রান। রান তাড়া করতে নামা দল দুটি এক ওভার হাতে রেখে জিতে যায় ম্যাচ। দুবাইয়ে রাতের ম্যাচগুলোতে ডেথ ওভারে (১৬-২০) পেসাররা দ্বিতীয় ইনিংসে দিয়েছে ওভারপ্রতি ১২.৮৩ রানের মতো করে, যেখানে প্রথম ইনিংসে ৯.৪৪ রান এসেছে পেসারদের ওভারপ্রতি।

সব মিলিয়ে আগে ব্যাট করা দলকে সীমিত স্কোরে আটকে রাখতে পারলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারে ফিল্ডিং নেওয়া দল। কিন্তু মঞ্চটা ফাইনাল। পরিসংখ্যানের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির প্রতিকূলতা ছাপাতে পারে যে কেউ। দুই দলই প্রস্তুত, এখন নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার পালা।