বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিক হত্যায় ৭ জনের ফাঁসির রায়

62

ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুল্লাহ চৌধুরীকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (০২ ডিসেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গুলজার হোসেন, আশিক, শিহাব আহমেদ ওরফে শিবু, আহসানুল কবির ইমন, তাজুল ইসলাম তানু, জাহাঙ্গীর খাঁ ওরফে জাহাঙ্গীর এবং রফিকুল ইসলাম ওরফে আমিন ওরফে টুন্ডা আমিন।

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় শম্পাকে খালাস দেওয়া হয়।  আসামিদের মধ্যে শম্পা, জাহাঙ্গীর ও আহসানুল কবীর কারাগারে। বাকি আসামিরা পলাতক।

কারাগারে থাকা সাজাপ্রাপ্ত দুই রায়ের পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি শম্পাকে অন্য কোনো অভিযোগ না থাকলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া পলাতক ৫ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা ও আসামিপক্ষে আইনজীবী আজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই আদালত এই মামলার বিচারকাজ শেষে রায়ের জন্য ১৮ অক্টোবর দিন দিন ধার্য করেন একই আদালত। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ২ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার নতুন দিন ধার্য করেন।

২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকুল্লাহ চৌধুরী। পরদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর এলাকার একটি হাসপাতালের পাশ থেকে আগুনে পোড়া বিকৃত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে থাকা কাগজ ও এটিএম কার্ড দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন ছেলে সাইদুর রহমান ফারুক চৌধুরী।

এরপর ১২ ডিসেম্বর ফারুক চৌধুরী বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায়ে একটি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২০১৫ সালের ২ জুলাই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২১ জন সাক্ষীর ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।