ব্রয়লারের দাম বেড়েছে, কমেছে সোনালি মুরগির

8

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে কমেছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সোনালি মুরগির পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে নতুন আলুর দাম। তবে বেড়েছে পুরান আলুর দাম। সেই সঙ্গে চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ডিমের দাম।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।

অন্যদিকে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগি আগের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী মো. সালাম শেখ বলেন, কাল সকালেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু রাতে পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখি দাম বেড়ে গেছে। বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামে বিক্রি করছি।

তিনি বলেন, শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির চাহিদা একটু বেশি থাকে। আমাদের ধারণা দাম বাড়ার এটি একটি কারণ। তাছাড়া বাজারে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহও কিছুটা কম আছে। তবে সোনালি মুরগির সরবরাহ বেশ ভালো। এ কারণে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়লেও সোনালি মুরগির দাম কমেছে।

কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিলন বলেন, সোনালি মুরগির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। বাজারে সোনালি মুরগির অভাব নেই। এ কারণে দাম একটু কম। তবে ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তাই আমাদের ধারণা সামনে সোনালি মুরগির দাম বাড়তে পারে।

মুরগির দামে মিশ্রপ্রবণতা থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। গত সপ্তাহের মতো ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে নতুন আসা আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। এ হিসাবে নতুন আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। আর পুরান আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পুরান আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরান শিমের কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে বাজারে নতুন আসা লম্বা ও বিচি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। তবে পাকা টমেটোর কেজি এখনো ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ফুলকপির পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় থাকা অন্য সবজির মধ্যে কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাক বিক্রি হচ্ছে। আর পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মো. নূর আলম বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন পাকা টমেটো বাজারে চলে এসেছে। আমাদের ধারণা অল্প কিছুদিনের মধ্যে সব ধরনের সবজির দাম আরও কমে যাবে।

মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। এক সপ্তাহ আগে রুই ও কাতল মাছের কেজি ছিল ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা।

শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে টাকি মাছ। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ মাছগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। ছোট ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামও পরিবর্তন আসেনি।