ভাস্কর্য বিতর্ক প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন: কাদের

111

ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নজরদারি করছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে দেখছেন। তিনি জানেন কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর দোয়েল চত্বরে অবস্থিত জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা সরকারের আছি। সব ব‌্যাপারে মাথা গরম করলে চলবে না।  বিষয়টি হ‌্যান্ডেল করছেন প্রধানমন্ত্রী। যেভাবে তিনি করোনা মোকাবিলা করছেন। সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তিনি এখানে এসেছেন, কাজেই তিনি জানেন কোনো পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

‘আমরা সরাসরি কোনো সংঘাতে যাব না।  যুক্তি-তর্ক দিয়ে বলবো মূর্তি আর  ভাস্কর্য এক নয়। পৃথিবীর দেশে দেশে আজকে যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা কি জানে না সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য আছে।  সেখানে ভাস্কর্য যদি ইসলামবিরোধী নয়, বাংলাদেশে কেন এটা অযৌক্তিক?’

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আমাদের জাতীয় নেতা, গণতন্ত্রের মানসপুত্র, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলে গণতন্ত্রের জন‌্য তিনি বারবার লড়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, দেশ ত‌্যাগ পর্যন্ত করেছেন।  তিনি বারবার বলতেন গণতন্ত্রই আমার জীবনের মূলমন্ত্র।  শাসনতন্ত্রের প্রশ্নে জনগণের রায়ই শেষ কথা তিনি সেটা বলতেন।’

বাংলাদেশে গণতন্ত্রেক বিকাশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের এই গণতন্ত্র অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে আজকে এই অবস্থায় এসেছি।  বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ৭৫ পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত‌্যকাণ্ডের পর ২১ বছর গণতন্ত্র শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলো। বঙ্গবন্ধু কন‌্যা শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এসে তার প্রথম কাজই ছিলো গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করা। এজন‌্য তিনি লড়াই সংগ্রাম করেছেন সারাদেশ চষে বেড়িয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছে, জেল-জুলুম সহ‌্য করেছেন।

‘এখন গণতন্ত্র শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছে কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এই দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।  গণতন্ত্র একটি বিকাশমান ধারা।’

তিনি বলেন, এদেশে একটি মহল আছে যারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা আচরণে তাদের কর্মকাণ্ডে কখনো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আছে এরা গণতন্ত্রের শত্রু। এরা গণতন্ত্রের বিকাশ চায় না।

‘গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠাানকি রূপ দেওয়ার জন‌্য অভ‌্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া কেই করে নাই। যাদের নিজেদের ঘরে গণতন্ত্র নেই তারা বাইরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে এটা আশা করা যায় না।’

এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরাজিত হোক আর বিজয়ী হোক কোনো বিদ্রোহীকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি না। এর মাধ‌্যমে সবার কাছে বার্তা যাবে যে, বিদ্রোহ করলে শাস্তি আছে।