মানুষ মরলে গুনি না, আবার গাছের হিসাব

7

জামালপুর শহরের বসাকপাড়ায় গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মকর্তার বাসভবন নির্মাণকালে কৌশলে শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলো কেটে ফেলার আগে সেগুলো রহস্যজনকভাবে মারা যায়।

কী কারণে গাছগুলো মারা গেছে, তা নিয়ে এলাকায় রয়েছে কৌতূহল। গাছ কাটার সময় দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। শতাধিক গাছের বাজার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। কেটে ফেলা এসব গাছ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু মৃত গাছ এখনো দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলো কাটার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়রা জানান, গাছগুলোর আশপাশে বেশকিছু জলাশয় ছিল। সেইসব জলাশয় বালি দিয়ে ভরাটের ফলেই গাছগুলো মারা গেছে। জলাশয় ভরাটের পাশাপাশি গাছের গোড়ায় মোটা বালুর আস্তরণ দেওয়ার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
হঠাৎ করেই শতাধিক গাছ মরে যাওয়ার পর কেটে ফেলাকে পরিবেশের বিপর্যয় বলে মনে করেছেন পরিবেশবাদীরা।

জামালপুর পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতা ও মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম জয়বাংলা নিউজকে বলেন, গাছগুলো ছিল শহরের অক্সিজেন সরবরাহের কেন্দ্র। এসব গাছ হঠাৎ করে কেটে ফেলায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

হঠাৎ করে গাছগুলোর মরে যাওয়ার যথাযথ কারণ অনুসন্ধান এবং এতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জামালপুরের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জয়বাংলা নিউজকে বলেন, আমি মানুষ মরলেই গুনি না, আবার গাছের হিসাব! প্রতি দিন কত মানুষ মারা যাচ্ছে সেই হিসাব কি জানেন? উল্টো প্রশ্ন করেন গণপূর্ত বিভাগের এই নির্বাহী প্রকৌশলী।