মাসুদ রানার স্রষ্টা আনোয়ার হোসেন আর নেই

80

জনপ্রিয় স্পাই ও থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানার স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

কাজী আনোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ মাসুমা মাইমুর এ তথ্য জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সেবা প্রকাশনীর উপদেষ্টা মাসুমা মাইমুর তার শ্বশুরের মৃত্যুর কথা জানান। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নিভে গেছে দীপ জনমের তরে, জ্বলিবে না সে তো আর। দূর আকাশের তারা হয়ে গেছে আমার ছেলেটা, আমার ছোট্ট ছেলেটা। আর কোনো দিনও আমার পিছু পিছু ঘুরে খুঁজবে না মায়ের গায়ের মিষ্টি গন্ধ। কোনো দিনই না। কিন্তু মাকে ছেড়ে থাকবে কীভাবে ওই অন্ধকার ঘরে আমার ছেলেটা? একা- শুধু একা? কী সব বকছি জানি না। আব্বা (কাজী আনোয়ার হোসেন) আর নেই। চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ৩১ অক্টোবর কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে। মাঝে পাঁচ বার হসপিটালাইজড ছিলেন তিনি। চিকিৎসার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায়নি। একটা ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হয়ে সব শেষ হয়ে গেল। ১০ জানুয়ারি থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আজ চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।

জানা গেছে, কাজী আনোয়ার হোসেন সেগুনবাগিচায় নিজ বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে এ লেখক হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন।

কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম নবাব। তার বাবা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন। মায়ের নাম সাজেদা খাতুন। তারা ছিলেন চার ভাই, সাত বোন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে একটি দালানে আনোয়ার হোসেনের ছেলেবেলা কেটেছে। ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বাড়ি বদলে তারা পাশের গেস্ট হাউজে চলে আসেন। পরে তারা সেগুনবাগিচায় নিজেদের বাড়িতে চলে আসেন।

আনোয়ার হোসেন ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন তিনি।

পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর রেডিওতে নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারের সংগীতশিল্পী ছিলেন। ১৯৬২ সালে কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৬৭ সালে রেডিও-টিভিতে গান গাওয়া এবং সিনেমার প্লে-ব্যাক করা ছেড়ে দেন তিনি।

১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেওয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে সেগুনবাগিচায় একটি প্রেস চালু করেন তিনি। ৮ হাজার টাকা দিয়ে কেনেন একটি ট্রেডল মেশিন আর বাকি টাকা দিয়ে টাইপপত্র। দুজন কর্মচারী নিয়ে সেগুনবাগান প্রেসের শুরু। পরে তিনি সেবা প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশে পেপারব্যাক গ্রন্থ প্রকাশ, বিশ্ব সাহিত্যের প্রখ্যাত উপন্যাসের অনুবাদ এবং কিশোর সাহিত্যের ধারাকে অগ্রসর করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার মেয়ে শাহরীন সোনিয়া কণ্ঠশিল্পী। বড় ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন এবং ছোট ছেলে মায়মুর হোসেন লেখালেখি করেন। তারা দুজনই সেবা প্রকাশনীর সাথে জড়িত।