যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

182

নির্বাচনের পর সময় যতই গড়িয়েছে ততই প্রতিদ্বন্দীতার উত্তেজনা বেড়েছে মার্কিন নির্বাচনে। তকে অনেক উৎকণ্ঠার পর ২৭৩ ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। 

তবে ,আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়েন বলছে, মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ২৮৪ পেয়ে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প পেয়েছেন ২১৪ টি ইলেকটোরাল ভোট।

গত ৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও গণনা শেষ করতেই এই কদিন পেরিয়ে গেছে।

এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে থেকে যাবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এত ভোট পড়েনি। এত টানটান উত্তেজনাও সম্ভবত ছিল না।

নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত কয়েকটি রাজ্যে ভোট গণনা বাকি থাকলেও ২শ’ ৬৪টি ইলেক্টোরাল ভোট নিশ্চিত করে বেশ এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছিলেন ২শ’ ১৪টি ইলেক্টোরাল ভোট।

 

ফল ঘোষণা বাকি থাকা ৫ রাজ্যের ৪টিতে ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ভোটের অর্জন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন বাইডেন।

২০টি ইলেকটোরাল ভোট থাকা পেনসিলভানিয়ায় হাড্ডাহাডি লড়াই হলেও শেষ বিজয়টা ছিনিয়ে নিয়েছেন জো বাইডেন।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের হাতে ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ছিল ২৬৪টি। সেই হিসেবে নেভাদার ৬ ইলেকটোরাল ভোট বাইডেনের  ২৭০ ইলেকটোরাল ভোটের ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ ছিল।  বিজয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটদের চোখ ছিল নেভাডার ৬টি ইলোক্টোরাল ভোটের দিকে। যেখানে আগে থেকেই এগিয়ে ছিলেন বাইডেন।

নেভাডায় ৮৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন বাইডেন। আর ট্রাম্পের দখলে ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

সংখ্যার হিসেবে অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বেশি পপুলার ভোটে এগিয়ে ছিলেন জো বাইডেন। রাজ্যটিতে যখন ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল তখনও সাত হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন বাইডেন।

ফল গণনার শুরু থেকেই বেশিরভাগ সময়ই এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ফল মানতে নারাজ ট্রাম্প নিজেকে জয়ী দাবি করে হোয়াট হাউস থেকে ভাষণও দেন। এবার নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারে বেশ কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে ভোট গণনা বন্ধ করার হুঙ্কারও দেন তিনি।  কয়েকটি রাজ্যে ভোট গণনার জন্য আইনি লড়াইয়ের আবেদন জানালেও তা ধুপে টেকেনি।

তবে নির্বাচনে আসল ফলে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে পোস্টাল ব্যালট। এসব ভোটের বেশিরভাগই গেছে বাইডেনের ঝুলিতে। সবশেষ সুইং স্টেট মিশিগানেও বাজিমাত করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।

ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনে দেয়া ভাষণে জো বাইডেন বলেছিলেন, নির্বাচনে তার জয় অনেকটাই নিশ্চিত। রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ার অঙ্গীকার করেন বাইডেন।

পূর্বের আশঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছিল নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা। ওরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ডে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ থেকে দোকান ভাংচুর হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা সেখানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে, পটকা, হাতুড়ি ও রাইফেল জব্দ করে। ট্রাম্প ভোট গণনা বন্ধ করার আহ্বান জানানোয় মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ করে দুই শতাধিক মানুষ। তারা প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া ও নিউ ইয়র্কেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, বুধবার গভীর রাতে শহরজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর তারা প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রথম দিকে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, আলাস্কা এবং পেনসিলভেনিয়ায়  ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে থাকলেও। তবে এর মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে পোস্টাল ব্যালটের ফল আসতে থাকায় ব্যবধান কমতে শুরু করে এবং শেষে বিজয়টা ছিনিয়ে নেয় জো বাইডেন।