লকডাউনে প্রাইভেট গাড়ির রাজত্ব

39

লকাউনে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন সড়কে প্রাইভেট গাড়ির রাজত্বে পরিণত হয়েছে। সারাদেশে ১ জুলাই থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত। উদ্দেশ্য করোনা সংক্রমণ রোধ করা। আজ মঙ্গলবার ( ৬ জুলাই) পর্যন্ত লকডাউনে সড়কে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। গণপরিবহন আর সড়কের পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া এবার সবই খোলা। সবমিলিয়ে অসুবিধায় পড়েছেন চাকরিজীবী।

কঠোর লকডাউনের ষষ্ট দিনে ছিল অনেকটা ঢিলেঢালা ভাব। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। গাড়ি চাপের কারণে বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকলেও অলি-গলিতে ছিল সিথিল। অনেক এলাকায় রাত ১০টার পরও দোকানপাট খোলা রাখতে দেখা গেছে। সোমবার ( ৫ জুলাই) থেকে ব্যাংক চালু হওয়ায় টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য অনেকেই বের হতে দেখা গেছে। এজন্য বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই সড়কে মানুষের চলাচল ছিল বেশি। জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়াও প্রাইভেটকার, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল ছিল বেশি। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, কাকরাইল, মালিবাগ, মৌচাক ও পল্টন এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেছে। সড়কে বের হওয়া বেশিরভাগ মানুষের মুখে মাস্ক থাকলেও রিকশাওয়লাা ও নিম্নআয়ের মানুষদের মাস্ক ছিল গলায় ঝোলানো।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় রুহুল নামের এক রিকশাওয়ালা বলেন, আজ মঙ্গলবার মানুষ রাস্তায় বের হয়েছে। যাত্রী ভালোই পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণ পর পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাস্ক পরলে রিকশা চালাতে কষ্ট হয়। তাই মাঝে মধ্যে নামিয়ে রাখি। পুলিশ দেখলে আবার মুখে দেই।
দয়াগঞ্জ এলাকায় স্বপ্না নামে এক গৃহিনী বলেন, কাঁচাবাজারের প্রয়োজনে বের হয়েছি। বাজারের বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চান না। এ কারণে বাজারে ঢোকেননি, রাস্তার পাশ থেকে শাক-সবজি কিনেছেন। লকডাউনে একটু সমস্যাই হয়েছে। কতদিন থাকে কে জানে।

আজ সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সারিবদ্ধভাবে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা। এ সময় আনিস নামের এক ব্যক্তি বলেন, এতদিন বাসা থেকে বের হয়নি। আজ ব্যাংকে টাকা উঠানোর জন্য বের হয়েছি। কিন্তু যাত্রাবাড়ী মোড়ে আটকে দিয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন সড়কেও ছিল যানবাহনের চাপ। প্রধান সড়ক এবং গলিপথে ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশার সংখ্যা ছিল বেশি। অনেককে হেঁটেই বিভিন্ন কাজে যেতে দেখা গেছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক পোশাককর্মী বলেন, লকডাউনে আমাদের গার্মেন্ট খোলা। কোন যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। তাই হেঁটেই কাজে যাচ্ছি। মাস্ক পরে তো হাঁটতে কষ্ট হয়। তাই পকেটে রেখে দিয়েছি অফিসে গিয়ে পরব।

সরকারি বিধিনিষেধ অনুযায়ী লকডাউনে নিত্যপণ্য ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ থাকার কথা। লকডাউনের শুরুর দিকে বেশিরভাগ দোকান বন্ধই ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সব ধরনের দোকানই খুলতে দেখা গেছে। মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায় ফার্নিচার, বেডিং স্টোর, স্যানিটারি পণ্য, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ও কাপড়ের দোকান খুলে রাখতে দেখা গেছে। অনেক দোকানে শাটার অর্ধেক বন্ধ রেখে বেচা-বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর চেকপোস্টে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীতে ব্যক্তিগত ও জরুরি সেবার যানবাহন কোথা থেকে আসছে এবং কোথায় যাবে জিজ্ঞেস করে চেকপোস্ট থেকে ছাড়া হচ্ছে। যারা যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে না পারছে, তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।