লাশ দাফন করতে হিমশিম খাচ্ছে মিয়ানমার

38

মিয়ানমারে কোভিড সংক্রমণের নতুন ঢেউ শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু হচ্ছে। ফলে লাশ দাফন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশটিতে লাশ পরিবহন ও সৎকারের কাজ করে এমন মানুষজন এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্সকে।

জান্তাশাসিত মিয়ানমারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার দেশটিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। সরকারের দেওয়া এই হিসাবে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যাটা এর চেয়ে অনেক বেশি।

দেশটির সব অংশেই যে করোনার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে তার নমুনা হলো রেকর্ড মৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের ধারণ বিবেচনায় নিয়ে তা জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা জান্তা সরকারের মুখপাত্রের সাড়া পাওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের রাজধানী শহর ইয়াংগুনে ইয়ায় ওয়ে কবরস্থানে গত সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষের শেষকৃত্য হয়েছে, যা স্বাভাবিক সংখ্যার দ্বিগুণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। শহরের আরও দুই কবরস্থানে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষকে দাফন করা হচ্ছে।

লাশ পরিবহনের কাজ করে এমন এক দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ৫২ বছর বয়সী বো সেইন বলছেন, ‌‌‘বিভিন্ন কবরস্থানে লাশ পরিবহনের কাজ করি আমরা। এখন আমাদের দিনে ৪০টির বেশি লাশ পরিবহনের কাজ করতে হচ্ছে।’

নিজে লাশ পরিবহনের কাজ করেন জানিয়ে সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত বো সেইন আরও জানিয়েছেন, ‘কবরস্থানে আজ এত লাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এভাবে আর বেশি দিন চলতে পারে না। করোনায় ধনী কি গরীব সবার মৃত্যু হচ্ছে। কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না।’

ইয়াঙ্গুন শহরে লাশ পরিবহনের কাজ করেন এমন আরও একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছার কথা জানিয়ে জানান, তার ১৮ জনের দল এত লাশের চাপ সামলিয়ে উঠতে পারছে না, তাই তিনি কাজের জন্য আরও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছেন।

মান্দালয়ের আয়ে ইয়েইক নেইন কবরস্থানের একজন বলছেন, গত মঙ্গলবার সেখানে একদিনে মোট ৬৩ জনের সৎকার করা হয়েছে। যাদের সবাই করোনা কিংবা করোনায় মারা গেছেন। সেদিন অন্য কারণে যেসব মৃত্যু হয়েছে তাদের সৎকার হয়েছে অন্য কবরস্থানে।

অভ্যুত্থানকবলিত মিয়ানমারে গত জুন মাস থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা ভয়ানক রূপ নিয়েছে গত দুই সপ্তাহে। গত বুধবার দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত সংক্রমণ ছিল ৭ হাজার ৮৯, যা এখন পর্যন্ত দৈনিক সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

দেশটির সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ হাজার ১৮১জন। তবে কম পরীক্ষা ও মৃত্যুর সঠিক হিসাব না থাকায় এই হিসাব নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।