শাপলা মিডিয়ায় হামলার প্রতিবাদে রাজপথে শিল্পী-কলাকুশলীরা

35

দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া ,শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ও সিনেবাজ অ্যাপের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

হামলার প্রতিবাদে ‘হোক প্রতিবাদ’ শ্লোগানে গত বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজারস্থ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) গেটে সমাবেশ,মানবন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠন। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বিএফডিসি’র প্রধান গেইট থেকে সোনারগাঁও হোটেলের মোড় হয়ে আবার বিএফডিসির প্রধান গেইটে এসে শেষ হয়।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, নৃত্য পরিচালক সমিতির সভাপতি আজিজ রেজা, উৎপাদন ব্যাবস্থাপক সমিতির সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম,শাপলা মিডিয়ার হেড অব প্রোডাকশন অপূর্ব রায়, চিত্র সম্পাদক আবু মুসা দেবু, নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, জাকির হোসেন রাজু, সাদেক সিদ্দীকি, মোহাম্মদ হোসেন জেমী,শামীম আহমেদ রনী, আবুল কালাম আজাদ, চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী ড্যানি সিডাক,অঞ্জনা,জাহিদ হাসান, আলেক জান্ডার বো,শিমলা,রাশেদা চৌধুরী, বাপ্পী চৌধুরী,শিবা শানু, সাবরিনা সুলতানা কেয়া,জাহারা মিতু,জ্যাকি আলমগীর,হারুন কিসিঞ্জার প্রমূখ। সঞ্চালনায় ছিলেন শাহীন সুমন ও বজলুর রাশেদ চৌধুরী। ‘প্রযোজক বাঁচলে, চলচ্চিত্র বাঁচবে। চলচ্চিত্র বাঁচলে, বাঁচবে শিল্পী কলাকুশলী’-এমন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে এফডিসি গেট প্রাঙ্গন। ব্যানার হাতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, নৃত্য পরিচালক সমিতি,সহকারী পরিচালক সমিতি (সিডাব), বাংলাদেশ ফিল্ম এডিটরস গিল্ড, ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন, রূপসজ্জাকর সমিতি, চলচ্চিত্র পাড়ার সকল কর্মচারী কর্মকর্তাবৃন্দ,ফিল্ম ক্লাব লিঃ, লাইট সরবারহ মালিক সমিতি ,লেখক সমিতি, বাংলাদেশ মিডিয়া লাইটম্যান এসোসিয়েশন , চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা ,ক্যামেরাম্যান এসোসিয়েশন, অঙ্গসজ্জা সমিতি, চলচ্চিত্র জুনিয়র শিল্পী, সহকারী ব্যাবস্থাপক সমিতি,স্থিরচিত্র গ্রাহক সমিতির সদস্যরা অংশ নেন প্রতিবাদ সামাবেশ ও মানববন্ধনে। পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘ আমরা ক্যামারার পেছনের মানুষ।

No description available.

চলচ্চিত্রে নানা সংকটে আমাদের সামনে আসতে হচ্ছে। যখন চলচ্চিত্রে ভাল প্রযোজকের অভাব চলছিল, তখন দেশীয় চলচ্চিত্রের প্রানস্পন্দন সেলিম খান চলচ্চিত্র কর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এরকম একজন মানুষের অফিসে আঘাত মানে আমাদের ও চলচ্চিত্রে আঘাত। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানাই ’। মিশা সওদারগর বলেন, ‘চলচ্চিত্রের বাতিঘর প্রযোজক সেলিম খান।

করোনার মধ্যেও চলচ্চিত্র নির্মান করে সবার রুটি রুজির ব্যাবস্থা করেছেন তিনি। তার অফিসে হামলা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।’ এক সপ্তাহের মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করার দাবী জানিয়ে জায়েদ খান বলেন, ‘এই হামলার বিচার চাই। এক সপ্তাহের মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করতে হবে। যদি এর বিচার না হয় তবে আমরা এফডিসিতে কঠোর কর্মসূচি পালন করবো। দরকার পড়লে আবারও রাজপথে নামবো। যতদিন না তদন্ত শেষে বিচার হবে, আমরা সক্রিয় থাকবো।

দ্রুত বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়, র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ শাপলা মিডিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে অভিনেতা ও প্রযোজক ড্যানি সিডাক বলেন ,‘এই মুহূর্তে চলচ্চিত্রের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে শাপলা মিডিয়া। এই হাউজ থেকে অনেক বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা চালিয়ে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমি মনে করি শুধু শাপলা মিডিয়াকে নয়, পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের বিরুদ্ধে এই হামলা। তাই অতি সত্ত¡র হামলাকারীদের খুঁজে এর সঠিক বিচারের দাবি করছি।’ অভিনেতা ও নির্মাতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘যারা সেলিম ভাইয়ের অফিসে হামলা চালিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য আসলে কী? চলচ্চিত্রের ভালো হোক তা তারা চায় না। যারা এ ঘৃন্য কাজ করেছে তাদের ঘৃনা জানাই’ শাপলা মিডিয়ার কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেতা বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া যদি বন্ধ হয়ে যায় ক্ষতি হবে ইন্ডাস্ট্রির ও দেশের ।

তাই এফডিসির সংঠগনগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও প্রতিবাদ জানানো উচিত। যাতে দ্রুত হামলাকারীদের বিচার হয়। আশা করছি, প্রশাসনের যারা আছেন বিষয়টি দ্রুততার দেখবেন ’। এছাড়া উপস্থিত সবাই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি দাবী করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অসুস্থ্য গুনী প্রযোজক,অভিনেতা ও নির্মাতা সোহেল রানা ও নির্মাতা কাজী হায়াতের সুস্থ্যতা কামনা করে দোয়া চাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার কর্নধার ও ভয়েস টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খানের অফিসে গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে প্রায় ১০০ জনের অজ্ঞাতনামা একটি দল হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে রাখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ, অফিসের আসবাবপত্র ও বেশ কয়েকটি কম্পিউটার ও একটি ইন্টারনেট সার্ভার মেশিন ভাংচুর করে তারা। ছিনিয়ে নেয় কর্মচারীদের মোবাইল ফোন, অফিসে রাখা নগদ টাকা ও ল্যাপটপ। ওই রাতে এ ব্যাপারে শাপলা মিডিয়ার ম্যানেজার রেজাউল করিম বাদল বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।