শিমুলিয়া,পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে উপচেপড়া ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

30

ঈদের আনন্দকে পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামে ছুটছেন মানুষ। দেশের দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতিতে আজও মুখরিত মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়াঘাট।

শনিবার (১৭ জুলাই) ভোর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় যানবাহনে চড়ে যাত্রীরা ঘাটে উপস্থিত হয়ে ফেরি ও লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। ফেরিঘাটে যানবাহন ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে চাপ।

অন্যদিকে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ায় ফেরিতে যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। শিমুলিয়াঘাটের অভিমুখে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় অবস্থান করছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিসি) শিমুলিয়াঘাটের সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘নৌরুটে বর্তমানে ১৩টি ফেরি ও ৮৩টি লঞ্চ চলাচল করছে।’

মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির বলেন, ‘ঘাট এলাকায় যাত্রী ও পণ্যবাহী পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারাপারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব যানবাহন পারাপার করা হবে।’

এদিকে, আজ সকাল থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। তবে ফেরি ও লঞ্চ পারাপারে বড় ধরনের কোনো দুর্ভোগ ও ভোগান্তির অভিযোগ নেই যাত্রীদের। ঘাটে বাসের তুলনায় চাপ রয়েছে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ির।

সরেজমিন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ছোট-বড় ১৬ ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার চলছে। পাটুরিয়া ঘাটে মাঝে মধ্যেই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের। ঘাটে পৌঁছেই নদী পার হতে পারছেন তারা। তবে ফেরির চেয়ে লঞ্চেই যাত্রী পার বেশি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা হ্যান্ডমাইক দিয়ে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানালেও যাত্রীরা তা খুব একটা আমলে নিচ্ছে না।

ফেরিতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও কোরবানীর পশুবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ পণ্যবাহী কয়েকশ ট্রাক আটকা পড়েছে নদীর দুই প্রান্তে। তবে রাত ও সকালের দিকে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ কম থাকে বলে অপেক্ষমান এসব ট্রাক পারাপার করার কথা জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান জানান, লকডাউন শিথিল এবং ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে আসা মানুষের চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া ঘাটে। একইভাবে দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ রয়েছে রাজধানীমুখি কোরবানীর পশুবাহী ট্রাকের। ছোট বড় ১৬ ফেরি দিয়ে সার্বক্ষণিক পারাপারের কারণে কোনো যানজট বা দুর্ভোগ নেই। ঈদের আগের দিন পযর্ন্ত যাত্রী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।