শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করেই ছাড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

98

টি-টোয়েন্টি সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতে খানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল সফরকারী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। শেষপর্যন্ত সিরিজ জিতেছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলই। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে লঙ্কানদের সেই সুযোগটাও দিল না ক্যারিবীয়রা। তিন ম্যাচ জিতে অতিথিদের সোজা হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদই উপহার দিল তারা।

রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে ক্যারিবীয়রা। সেঞ্চুরি করে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন ড্যারেন ব্রাভো।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য খুব একটা আশা জাগানিয়া ছিল না স্বাগতিকদের। প্রথম পাওয়ার প্লে’র দশ ওভারের মধ্যেই মাত্র ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইস ফেরেন ১৩ রান করে, তিন নম্বরে নামা জেসন মোহাম্মদের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮ রান।

তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ঘুরে দাঁড়ান ড্যারেন ব্রাভো ও শাই হোপ। পুরো সিরিজে ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করা শাই হোপ এ ম্যাচেও তুলে নেন ফিফটি। তবে সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি। দলীয় ১৪৮ রানের সময় ৬৪ রান করে হোপ আউট হলে ভাঙে ১০৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

তখনও জয়ের জন্য ১১৩ বলে ১২৭ রান প্রয়োজন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দ্রুত রান তোলার তাগিদে মাত্র ৮ বলে ১৫ রান করে আউট হন নিকোলাস পুরান। এর ফাঁকে নিজের ফিফটি পূরণ করেন ড্যারেন ব্রাভোও। পরে অধিনায়ক পোলার্ডের সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৭০ বলে যোগ করেন ৮০ রান।

একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি করলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে পারেননি ব্রাভো। দলীয় ২৪৯ রানের মাথায় তিনি আউট হন ১৩২ বলে ৫ চার ও ৪ ছয়ের মারে ১০২ রানের ইনিংস খেলে। খানিক ধীরগতির ইনিংস হলেও মূলত এর কল্যাণেই জয়ের ভিত পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পরে বাকি কাজ সারেন পোলার্ড ও জেসন হোল্ডার। দুজনের ১৪ বলে ২৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৯ বল আগেই ম্যাচ জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা। ক্যারিয়ারের ১২তম হাফসেঞ্চুরিতে ৪২ বলে ৫৩ রান করেন পোলার্ড। হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১৪ রান।

এর আগে শ্রীলঙ্কাকে ২৭৪ রান এনে দেয়ার মূল কৃতিত্ব দুই লেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আশেন বান্দারা ও হাসারাঙ্গা ডি সিলভার। ইনিংসের ৩২তম ওভারের মধ্যেই ১৫১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল লঙ্কানরা। ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি দানুশকা গুনাথিলাকা (৩৬) ও দিমুথ করুনারাত্নেরা (৩১)।

সেই অবস্থা থেকেই দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন বান্দারা ও হাসারাঙ্গা। অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে তারা দুজন মিলে যোগ করেন ১২৩ রান। বান্দারা খেলেন ৭৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস, হাসারাঙ্গার ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ৬০ বলে ৮০ রান। তবে শেষপর্যন্ত এটি জয়ের জন্য যথেষ্ঠ হয়নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন আকিল হোসেন। নিজের দশ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি এই স্পিনার। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়াংশে সকল আলো কেড়ে নেন ড্যারেন ব্রাভো এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার। আর সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে শাই হোপের হাতে।