প্যারেড গ্রাউন্ডে গণহত্যার কালরাত্রি স্মরণ

62

২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হানাদার বাহিনী। ১৯৭১ সালের এই রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে চালায় বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। সেই ভয়াল রাতকে স্মরণ করে আয়োজিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের নবম দিনের অনুষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ)  গণহত্যা দিবসে এই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’। থিয়েটারিক্যাল পারফরমেন্সের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।

 অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা

অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে স্বাগত বক্তব্যসহ  সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। আলোচনা পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চাং সে কাইয়ুন এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সুহৃদ, জাপানের তাকাশি হাওয়াকাওয়া-এর ছেলে ওসামু হায়াকাওয়া’র ভিডিওবার্তা প্রচার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন প্রিন্স চার্লস, সেটিও এ সময় প্রদর্শন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বন্ধুরাষ্ট্র কোরিয়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারণকৃত ভিডিও প্রদর্শিত হয় প্রথমেই। ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও আর ভাটিয়ালি গানের সুরে কোরিওগ্রাফিক পরিবেশনা চলে এরপর।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে গান গাওয়া আমেরিকান সংগীত শিল্পী জোয়ান বায়েজের গান পরিবেশনা করেন সুরকার ও সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার এবং এলিটা করিম। এছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া গান পরিবেশন করা হয়। এতে অংশ নেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীরা। এদের মধ্যে ছিলেন— রফিকুল আলম, তিমির নন্দি, লিনু বিল্লাহ, খুরশিদ আলম ও বাপ্পা মজুমদার প্রমুখ।

অ্যালেন গিন্সবার্গের ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী মৌসুমি ভৌমিক। এছাড়া আরও ছিল  বাংলা চট্টগ্রামের ‘যুদ্ধ শিশু’ দলের পরিবেশনা। কম্বোডিয়ার লোকযন্ত্র বাদন ও কোরিওগ্রাফি প্রদর্শন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার’ শীর্ষক একটি ভিডিও ক্লিপের পাশাপাশি ছিল  ঢাকা থিয়েটারের পরিবেশনায় নাট্যাংশ ‘নিমজ্জন’। আর অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য সংগীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।