‘সম্রাটের সহযোগী আরমানের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন পরীমণি’

39

দেশের গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গত প্রায় এক মাস ধরে সবচেয়ে চর্চিত নাম পরীমণি। ঢাকাই সিনেমার এই নায়িকা অভিযোগ করেছিলেন, ১০ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। সে অভিযোগের প্রধান আসামী নাসির ইউ আহমেদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।

এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় জনমনে। কারো মতে, পরীমণির সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অন্যায়। সেটার যথাযথ বিচার হওয়া প্রয়োজন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, ঘটনায় পরীমণিরও ভুল রয়েছে।

এদিকে ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীও দুষলেন পরীমণিকে। তার মতে, মধ্যরাতে বোট ক্লাবে গিয়েই ভুল করেছেন পরী। তিনি না গেলে এমনটা ঘটত না।

সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে পরীমণি সম্পর্কে একটি বিস্ফোরক তথ্যও জানালেন জয়নাল হাজারী। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন পরীমণি। হাজারী বলেন, ‘সম্রাটের এক সঙ্গী আরমান পরীমণিকে নিয়ে সিঙ্গাপুর যান। আমরা একই ফ্লাইটে গেলাম এবং আসার সময়ও একই ফ্লাইটে এলাম। এই আরমানের কোনো ছবি মুক্তি পেয়েছে বলে আমি জানি না। ফেনীতেও সে পরীমণিকে নিয়ে গিয়েছিল।’

পরীমণির বোট ক্লাবে যাওয়া নিয়ে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘একটা কথাতেই সব শেষ হয় যে, এই মেয়ে (পরীমণি) বোট ক্লাবে গিয়েই অপরাধ করেছে। মেয়েটা যদি না যেত, এ ঘটনা হতো না। তাকে যদি ধর্ষণ করা হয় বা নির্যাতন করা হয়, তা তার দোষেই হয়েছে। সে তো জানে ওই ক্লাবে কী হয়। মদ খাওয়া হয়, জুয়া খেলা হয়। আমি যদি জেনে শুনে বাঘের মুখে পড়ি, বাঘ তো আমাকে খাবেই। সাপের গায়ের উপর পা দিলে তো কামড়াবেই। এটা তো জানা কথাই; তাহলে সে কেন গেল। মূলত এটার জন্য আমি তাকে অপরাধী মনে করি।’

ওই ঘটনার প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নও তুলেছেন জয়নাল হাজারী। তা হলো, ‘পরীমণি বোট ক্লাবের ঘটনার পর থানায় গিয়েছিলেন মামলা করতে। তবে পরীমণি অসংলগ্ন, মাতাল ছিলেন বলে সেই মামলা নেননি থানার ওসি সাহেব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সে যদি মাতাল হয়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করার নিয়ম। কিন্তু তখন তা কেন করা হলো না।’

প্রসঙ্গত, ১০ জুন রাতে ওই ঘটনা ঘটার তিন দিন পর ১৩ জুন রাতে সেটা প্রকাশ্যে আনেন পরীমণি। প্রথমে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং পরে সাংবাদিকদের ডেকে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। এর পরের দিন তিনি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় নাসির ইউ আহমেদ এবং তার পাঁচ সহযোগীকে। তবে ইতোমধ্যে নাসির ইউ আহমেদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।