সরকারি নির্দেশনা মানছে না চকরিয়ার জমজম হাসপাতাল!

10

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় রোগীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমজম হাসপাতালর বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডাঃ শেখ দাউদ আদনান স্বাক্ষরিত গত ৭ নভেম্বর তারিখের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি তে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালিক এমপি’র নির্দেশনায় বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার মুল্য তিনশ টাকা পুনঃ নির্ধারণ করা হয়। এখন সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার রোগীদের থেকে এক হাজার পঞ্চাশ টাকা করে ফি হাতিয়ে নিচ্ছেন চকরিয়া জমজম হাসপাতাল। এছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষায় গলাকাটা টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছেন।

ডেঙ্গু রোগী ভুক্তভোগী উপজেলার বরইতলী ইউপির বাসিন্দা এনামুল হক চৌধুরী বলেন,আমি শারিরীক অসুস্থতায় বোধ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জমজম হাসপাতালে ডাক্তার দেখা যায়।চিকিৎসক আমার কথা শুনে ডেঙ্গু পরীক্ষার দিতে বলেন।তখন আমি রিসিপশনে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার দিতে গিয়ে আমাকে ফি বাবদ দিতে ১হাজার ৫০ টাকা।প্রেসক্রিপশনে ডিসকাউন্ট উল্লেখ। থাকায় দিতে হলো ৭শত ৮০টাকা।পরবর্তীতে উপজেলার অন্যান্য হাসপাতালে আরো কয়েকটি পরীক্ষা করতে গিয়ে,ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি সম্পর্কে জেনেছি ৩টাকা।তখন বুঝে নিলাম সরকারী নতুন নির্দেশনা অমান্য করে আমার থেকে ৪শত ৮০টাকা ফি অতিরিক্ত জমজম হাসপাতাল!
তিনি আরো বলেন, আমি একজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ব্যক্তি।যে হাসপাতালে আমাকে ঠকিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিলো,না জানি এলাকার সাধারণ মানুষকে কি পরিমাণ ঠকাচ্ছে এই হাসপাতাল?তাই এই হাসপাতালের কর্মকাণ্ডের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিনয়ীভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গোলাম কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ডেঙ্গু পরীক্ষার সম্পর্কে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক কোন নির্দেশনা বা চিঠি পাইনি।তাই পূর্বের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী পরীক্ষার ফি নেওয়া হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শোভন দত্ত বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি পুনঃনির্ধারণ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা,আমি উপজেলার সকল ক্লিনিককে যথাযথ সময়ে পৌঁছে দিয়েছি।এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।এরপরও যদি কোন ক্লিনিক সরকারী নির্দেশ অমান্য করে থাকেন।তাহলে ঐ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথে প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও যথাযথ মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।কেউ যদি সরকারী নির্দেশনা পায়নি বলে অস্বীকার করে রোগীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।এমন অভিযোগ উঠলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ান বলেন,দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।তাই জনগণের সুবিধার্থে ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে নতুনভাবে ফি নির্ধারণ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জমজম হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।