সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত অনুমোদন

57

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (০২ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অনুপস্থিতিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৪তম বৈঠকে প্রস্তাবটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্‌ মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্রয়ের নিমিত্ত পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২)-এ উল্লিখিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

টেন্ডার ছাড়া কেন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার জন্য প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। প্রস্তাবটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি সেটা সুপারিশ করেছে। আর টাকা-পয়সার বিষয়ে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে যখন আসবে তখন আলোচনা হবে। তবে এককালীন কিনতে হলে ৫ কোটি টাকার বেশি হলে ক্রয় কমিটিতে আসে। এককালীন কিনতে গেলে এর দাম ৫ কোটি টাকার বেশি হবে। এজন্য ক্রয় কমিটিতে আনতে হবে।

৫ কোটি টাকার বেশি হবে দেখেই কি পিপিআর অব্যাহতি নেওয়ার জন্য প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল—এমন প্রশ্নেন জবাবে তিনি বলেন, পিপিআর অব্যাহতি নিতে আসেনি। পিপিআরের মধ্যেই সব নিয়ম অনুসরণ করে পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২)-এ উল্লিখিত মূল্যসীমার ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে হলেই এই কমিটি বিবেচনা করবে। পিপিআরের সেই ধারাটা ফলো করার জন্যই এই কমিটিতে আনা হয়েছে।

এর আগে ৩০ নভেম্বর সচিবালয়ে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোভিড-১৯ সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের সবশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে জনানো হয়, গত ১৪ অক্টোবরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিন কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এরপর ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠালে বুধবার সেই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই দিন মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাব বলেছিলেন, মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেওয়া হবে। টাকা সরকার পে করে দিচ্ছে। তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হবে।

ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মেজর করাপশন কেউ করলে আমাদের জানাবেন, আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

ভ্যাকসিন কিনতে সরকারের খরচ কত হবে—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয়ের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, আরও অনেকগুলো ভ্যাকসিনের বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেছে যোগাযোগ রাখছে। এখনই বলা যাচ্ছে না কোনটা বেশি ইফেকটিভ হবে। আমাদের এক নম্বর কন্ডিশন হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মানতে হবে। যার সঙ্গে চুক্তি করবেন, যদি মেজর কোনো সমস্যা হয় তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলের বাইরে গেলে ওই চুক্তির কোনো মূল্য থাকবে না।

চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রিজেক্ট করেনি। ওরা একটা টাকা চাচ্ছে। সরকার এখনও দেয়নি বা অ্যাগ্রি করেনি। আমরা ওটা এখনও বাতিলও করিনি। প্রথমে টাকা চায়নি, এখন টাকা চাচ্ছে।