সাকিবকে ছাড়াই টাইগারদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ

89

এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারানোর স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। তবে এবার সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ডানেডিনে অনুষ্ঠেয় প্রথম ম্যাচে। কারণ এই ম্যাচে থাকছেন না নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান। তাদের মধ্যে একজন আবার নিয়মিত অধিনায়ক। ফলে এটাকে সুবর্ণ সুযোগ বলেই মানছে টাইগাররা।

মূলত নিউজিল্যান্ডে এবার যে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল সেটাই বাংলাদেশের আশার পালে হাওয়া দিচ্ছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, সফরকারীরা এসেছে সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই। সিরিজে সবচেয়ে বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি। তবে ছয় বছর পর নিউজিল্যান্ডও প্রথমবারের মতো কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর দুজনকেই পাচ্ছে না। এটাই বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি।

তবে দুই সেরা ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ছাড়াই নিউজিল্যান্ড বেশ শক্তিশালী দল। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম, ওপেনার মার্টিন গাপটিল এবং হেনরি নিকোলসরাও কম যান না। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সাকিবের না থাকা অনেক বড় ক্ষতি সন্দেহ নেই। মিডল অর্ডারে তার অনবদ্য ব্যাটিং মিস করবে টাইগাররা। তারচেয়েও বড় কথা, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলারও এই বাঁহাতি স্পিনার, বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডে।

বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে ওয়ানডেতে তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম। এর এটা তাদের প্রিয় ফরম্যাটও। কিছুদিন আগেই ঘরের মাঠে উইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তামিমবাহিনী। এই ফরম্যাটে দলের কয়েকজনের ফর্মও বেশ ভালো। কিন্তু একই দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হারার পর আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক। তবে সর্বশেষ ৫ ওয়ানডের সবগুলোতেই জয় পাওয়া বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস নিশ্চয়ই সর্বশেষ ৫ ম্যাচের ৩টিতে জেতা নিউজিল্যান্ডের চেয়ে বেশিই হওয়ার কথা।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলতে চলেছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর মাত্র ৪ ম্যাচ খেলেছে কিউইরা। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজটি করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে অসমাপ্ত থেকে যায়।

সবমিলিয়ে দুই দলের সামনেই প্রায় সমান সুযোগ। এখন দরকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি দরকার ফর্মে থাকা ট্রেন্ট বোল্ট ও কাইল জেমিয়েসনের মতো কিউই পেসারদের সামলানোর উপায় খুঁজে বের করা। এক্ষেত্রে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজদের সময় এসেছে ম্যাচ জেতানোর ভূমিকায় হাজির হওয়া। সবচেয়ে বেশি দরকার বাংলাদেশের পেস আক্রমণের একসঙ্গে জ্বলে ওঠা। কারণ এবার দলে তিন পেসার খেলানোর ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গেছে। ফলে পেসারদের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ।

সিরিজে নিউজিল্যন্ডের গোপন অস্ত্র হতে পারেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ডেভন কনওয়ে। গত বছরের শেষদিকে কিউইদের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া এই ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংস খেলে চমকে দিয়েছিলেন। ২৯ বছর বয়সীকে হয়তো তিনে ব্যাটিং করতে দেখা যাবে।

আর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্রে হতে পারেন মুশফিকুর রহিম। সাকিবের অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডার সামলালোর গুরুদায়িত্ব পড়বে এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ওপর। উইকেটরক্ষকের ভূমিকাতেও থাকবেন তিনি। দুই ভূমিকায় থাকলে প্রায়ই তার সেরাটা বেরিয়ে আসে। স্লগ ওভারে তার ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ।

সৌম্যকে ওপেনিংয়ে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম । তার কাছ থেকে ঝড়ো শুরু আশা করবে দল। আর তিনে নামতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টানা ব্যর্থতার পরও তার ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এবার সময় এসেছে নিজেকে প্রমাণ করার। প্রথম ম্যাচের একাদশে চোটে পড়া মোসাদ্দেকের থাকার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে সুযোগ পেতে পারেন মোহাম্মদ মিঠুন। আর বোলিংয়ে ফিজের সঙ্গী হতে পারেন রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদরা।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন/মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ্‌, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন/তাসকিন আহমেদ।

নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ: মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, ডেভন কনওয়ে, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), উইল ইয়ং, জেমস নিশাম, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাউদি, কাইল জেমিয়েসন এবং ট্রেন্ট বোল্ট।