‘সাকিব নিজে না সরলে বোর্ডের পক্ষে সরানো কঠিন’

45

নিষেধাজ্ঞা, ইনজুরি কিংবা ব্যক্তিগত কারণে ছুটি- সবমিলিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে বাংলাদেশ দলের হয়ে ২৭ টেস্টের মধ্যে ১৮টিতে অনুপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যোগ হবে আরও দুই টেস্ট। কারণ তাকে বিশ্রাম দিয়েছে বিসিবি।

অর্থাৎ গত সাড়ে চার বছরে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সাকিবকে ছাড়াই বেশিরভাগ ম্যাচ খেলতে হয়েছে বাংলাদেশ দলের। তার ওপর গত রোববার সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেস্ট খেলার ব্যক্তিগত আগ্রহ নেই তার।

যা শুনে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও অন্যতম শীর্ষ পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও সাকিবের এই টেস্ট খেলতে অনীহার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রতিক্রিয়ায় মনে হচ্ছিল, এবারের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে হয়তো টেস্ট ফরম্যাটে রাখা হবে না সাকিবকে।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে যে পাঁচজনকে নেওয়া হয়েছে, সেখানে জায়গা হয়েছে সাকিবেরও। যিনি চলতি বছর কোনো টেস্ট খেলেননি, সাম্প্রতিক সময়ে মিস করেছেন অনেক টেস্ট, এমনকি নিকট ভবিষ্যতেও টেস্ট খেলার আগ্রহ নেই; তাকে কেন টেস্টেও রাখা হলো?

উত্তর মিলেছে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কাছ থেকে। নির্বাচক কমিটিকে জানানো হয়েছে, তিন ফরম্যাট খেলতেই আগ্রহী সাকিব। এ কারণেই রাখা হয়েছে তাকে। সাকিবের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে সেরাটা চান বলেই তাকে সব ফরম্যাটে রাখা হয়েছে বলে জানালেন নান্নু।

শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘সাকিব ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম নিয়েছে। তারপর থেকে ও এভেইলেবল। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তিন ফরম্যাটের জন্যই ও এভেইলেবল। ও বড় মাপের খেলোয়াড়। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারদের একজন। ওর কাছে সবসময় সেরাটাই আমরা চাই। সেজন্য ওকে তিন ফরম্যাটেই রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ বছর আমাদের অনেক খেলা আছে। আগামী এক বছর আমরা সাকিবের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স চাচ্ছি। ২০২২ সালে আমাদের অনেক খেলোয়াড় লাগবে। সেরা খেলোয়াড়কে আমরা সবসময়ই তিন ফরম্যাটে চাই। আশা করছি রিফ্রেশ হয়ে ফিরে এসে সাকিব তিন ফরম্যাটেই খেলবে।’

এসময় পাশে থাকা আরেক নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাক জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত টেস্ট থেকে বিশ্রাম চাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাদের কাছে নেই। তাই সাকিবের মানের একজন খেলোয়াড় নিজে সরে না গেলে বোর্ডের পক্ষে সরিয়ে কঠিন বলে জানিয়ে দেন নির্বাচক প্যানেলের কনিষ্ঠতম সদস্য

রাজ্জাকের ভাষ্য, ‘৬ মাসের ছুটির যে কথা বলা হচ্ছে, তা আনুষ্ঠানিক কিছু না। কেউ দুইটা সিরিজ বিশ্রাম নিলে তাকে তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে রাখা যাবে না এটা না। এখানে সিস্টেম হল- বোর্ড প্রথমে কথা বলেছে কে কোন ফরম্যাটে খেলতে চায়। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘সাকিব কিন্তু এখনও কোনো ফরম্যাট থেকে সরে যায়নি। সাকিব এই মাপের খেলোয়াড় যে নিজে থেকে কোনো ফরম্যাট থেকে সরে না গেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া কঠিন। এখনও সাকিবের সাথে আমাদের ওরকমভাবে কথা হয়নি। কথা হলে জানতে পারবেন।’

চুক্তিভূক্ত ক্রিকেটারদের নাম

টেস্ট-ওয়ানডে ও টি-টোয়োন্টি এই তিন ফরম্যাটর চুক্তিতে রয়েছেন যারা: সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম।

শুধু টেস্ট এবং ওয়ানডেতে রয়েছেন যারা: তামিম ইকবাল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

শুধু টেস্টে রয়েছেন যারা: মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, এবাদত হোসেন চৌধুরী, সাদমান ইসলাম, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, মাহমুদুল হাসান জয়।

ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে রয়েছেন যারা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব।

শুধু টি-টোয়েন্টির চুক্তিতে রয়েছেন যারা: নুরুল হাসান সোহান, নাসুম আহমেদ, নাইম শেখ এবং শেখ মেহেদী হাসান।