সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দিশেহারা লাখো মানুষ

45

সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। তলিয়ে গেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, রাস্তাঘাট, রোপা আমনের ক্ষেত।

অন্যদিকে নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চৌহালী, কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার নদী পাড়ের মানুষ। তবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

যমুনা নদীর পানির প্রবল চাপে জেলার কাজিপুর উপজেলার মনসুর নগরের মাজনাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় পাকা রাস্তার সেতু দুটি ধসে গেছে। এসময় রাস্তার বেশ কিছু অংশও ধসে গেছে।

কাজিপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামছুল বারি জানান, ওই সড়কে একটি এলজিইডির পুরাতন সেতু ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের আরেকটি সেতু ধসে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী জাকির হোসেন বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। আরও দু’একদিন পানি বাড়তে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে।

এদিকে, জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও বেশ কয়েকটি এলাকা পানিবন্দি হয়ে পরেছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি ও বকশীগঞ্জে ৬টি উপজেলায় ৩২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পরেছে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষেতসহ ভূমি, বসতবাড়ি, কাঁচা-পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঘরের ভেতর পানি উঠায় রান্না করা বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্যের চরম সংকট। বন্যা দুর্গত এলাকায় পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্ত থাকলেও চোখে পরার মত ত্রাণ বিতরণ এখনও দেখা যায়নি। দুর্গম চরাঞ্চলে এখনো মিলেনি সরকারি সহায়তা।

জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মো, নায়েব আলী জানান, বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্ত এলাকায় ১১২ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪০০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৮২ লাখ টাকা। দুর্যোগ মোকাবিলা ১৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ৭৫টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্য ৭০টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।