সুনামগঞ্জে বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

32

পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-সিলেট বাইপাস সড়কে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। এতে সকাল থেকেই পথে পথে ভোগান্তিতে পড়েছেন গন্তব্যে ছুটে চলা সাধারণ মানুষ। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘট পালন করছে।

সকালে সরজমিনে দেখা যায়, হঠাৎ করে ধর্মঘট ডাকায় গন্তব্যমুখী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। সকালে বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা শহরের সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনালে এসে সাধারণ যাত্রীরা টিকেট কাউন্টারগুলো বন্ধ দেখতে পায়। বাস কাউন্টারের সামনে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে গন্তব্যে যাওয়া জন্য অপেক্ষা করছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাউন্টারগুলোর সামনে বাড়ছে যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু কখন ছাড়বে বাস, নির্দিষ্টভাবে কেউ তা বলতে পারছে না।

জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা রনি মিয়া বলেন, আমি ভৈরব যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। এসে দেখি, ছোট একটা বিষয় নিয়ে বাস ধর্মঘট চলছে। পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দয়া করে আপনাদের সমস্যার জন্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবেন না।

হবিগঞ্জ থেকে আসা জুয়েল আহমেদ বলেন, একটা প্রজেক্টের কাজের জন্য সুনামগঞ্জ আসছি, আজ বাড়ি যাওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ শুনলাম যানবাহন চলবে না। এটা আসলেই দুঃখজনক। সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে হবিগঞ্জ যাওয়ার এখন কোনো মাধ্যমই নেই। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

হবিগঞ্জ থেকে আসা নির্মল দেব নামের এক যাত্রী বলেন, এ যে যাত্রীদের একটা দুর্ভোগ, এটা খুব হতাশার। যানবাহনে যদি কেউ চাদাবাজি করে তাহলে এটা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে হবে। আজকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-সিলেট রুটের বাসচালক জয়নাল মিয়া বলেন, সিলেট বাইপাস সড়কে একটি চক্র আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে মারধর করে। আমরা বিষয়টি শ্রমিক নেতাদের জানালে তারা পুলিশকে জানান। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমরা ধর্মঘট ডেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।

সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুখ আহমদ বলেন, সিলেট বাইপাস সড়কে একটি চক্র আন্তঃজেলায় বাস থেকে চাঁদাবাজি করছে এবং অনেক সময় যাত্রীদের মোবাইল জোর করে ছিনিয়ে নিচ্ছে। আমরা বিষয়টি সুনামগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিলেট পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ওই চাঁদাবাজ চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা একটু এদিক-ওদিক হলেই চালকদের মারধর করছে। বাসচালক ও সাধারণ যাত্রীরা এ ধরনের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই চান। এজন্যই আমরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দূরপাল্লার কোনো যানবাহনের চাকা ঘুরবে না।