সেই গলকে হারিয়েই টানা দ্বিতীয়বার এলপিএল চ্যাম্পিয়ন জাফনা

10

ইতিহাসের পূনরাবৃত্তিই হলো লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে। সেই গল গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারিয়েই টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো জাফনা কিংস। হাম্বানতোতার মহিন্দা রাজাপাকসে স্টেডিয়ামে রানবন্যার ফাইনালে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সকে ২৩ রানে পরাজিত করে জাফনা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে ২০১ রানের বিশাল স্কোর গড়ে তোলে জাফনা কিংস। জবাবে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সও কম যায়নি। ৯ উইকেটে ১৭৮ রান।

বদলা নেওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের সামনে। কিন্তু তারা সেটা পারলো না। বরং ইতিহাসের পুরনাবৃত্তির সঙ্গে মধুর প্রতিশোধও নিল জাফনা কিংস।

এবার ছিল এলপিএলের দ্বিতীয় আসর। গতবার এলপিএলের উদ্বোধনী মৌসুমের ফাইনালে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সকে ৫৩ রানের ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাফনা কিংস। এবারও ফাইনালে মুখোমুখি সেই দুই দল এবং সেই গলকেই ২৩ রানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো এলপিএলের খেতাব ঘরে তুলল তারা।

টানা দু’বারই চ্যাম্পিয়ন জাফনা। তাহলে প্রতিশোধ কিভাবে হলো? মূলতঃ এবারের আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে হারতে হয়েছিল জাফনাকে। যে কারণে, ফাইনালে ওঠা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাদের। এমনকি লিগ পর্বের দুই ম্যাচেও জাফনাকে পরাজিত করে গল। শুধু তাই নয়, একমাত্র গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছেই টুর্নামেন্টের হার মানে কিংস, বাকি সব ম্যাচ জেতে তারা।

তবে ফাইনালে বাজিমাত করে জাফনা। এবারের আসরে টানা তিনবার গলের কাছে হারার পর শিরোপা লড়াইয়েই আসল কাজটা করে ফেলে কিংস। সুতরাং, এই জয় তাদের কাছে মধুর প্রতিশোধ হিসেবেও বিবেচিত।

ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জাফনা অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ২০১ রানের বিশাল ইনিংস। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে শতরান করা আভিসকা ফার্নান্দো ফাইনালেও হাফ-সেঞ্চুরি করেন। ৮টি বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কায় ৪১ বলে ৬৩ রান করে আউট হন তিনি।

আফগান মারকুটে ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ করেন ১৮ বলে ৩৫ রান। টম কোহলার-ক্যাডমোর ৪১ বলে করেন অপরাজিত ৫৭ রান। শোয়েব মালিক ১১ বলে ২৩ রানের কার্যকরী যোগান দেন। অধিনায়ক থিসারা পেরেরা ৯ বলে ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। গলের হয়ে মোহাম্মদ আমির, নুয়ান তুষারা ও সামিত প্যাটেল ১টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে গল ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে করে ১৭৮ রান। দানুস্কা গুনাথিলাকা মাত্র ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেন। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের ফাইনালে এটিই কোনও ব্যাটারের করা দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড।

শেষমেশ তিনি ২১ বলে ৫৪ রান করে আউট হন। এছাড়া কুশল মেন্ডিস ৩৯, সামিত প্যাটেল ২২, ভানুকা রাজাপাকসে ১৪ এবং মোহাম্মদ হাফিজ ১০ রান করেন।

হাসারাঙ্গা ও চতুরঙ্গ ডি’ সিলভা ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন থিকসানা, জয়ডেন সিলস ও লাকমাল। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আভিসকা। ৩১২ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।